
জেডি ভ্যান্স।
শেষ আপডেট: 2 May 2025 11:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের জঙ্গিদের খুঁজে বের করাই আপাতত প্রধান কাজ ভারতের এবং সেই কাজে ভারতকে সহযোগিতা করা উচিত পাকিস্তানেরও। পহেলগাম হামলার প্রেক্ষাপটে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি. ভ্যান্স। তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটন আশা করে এই হামলা পরবর্তী ভারতের যে প্রতিক্রিয়া , তা যেন বৃহত্তর কোনও অঞ্চলিক সংঘাতের কারণ না হয়, সেদিকে নজর দেবে ভারত।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'আমাদের আশা, এই সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত যেন এমন কিছু না করে, যাতে এটি বৃহত্তর অঞ্চলিক সংঘাতে পরিণত হয়।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা সত্যিই আশা করি যে পাকিস্তান ভারতকে সহযোগিতা করবে, যতটুকু তারা দায়ী তা মেনে নেবে এবং তাদের এলাকায় অপারেট করা সন্ত্রাসীরা খুঁজে বের করলে ব্যবস্থা নেবে।'
প্রসঙ্গত, হামলার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ বহু শীর্ষস্থানীয় মার্কিন নেতা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। যদিও তাঁদের তরফে পাকিস্তানকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি। তাঁরা ভারতের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন এবং সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
এর পরে ভ্যান্সের এই মন্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকা অবস্থান বদল করে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল। কারণ পহেলগাম নিয়ে আগে তারা তদন্তের কথা বলেছিল। এবার কার্যত মেনে নিল, পাকিস্তান যোগ রয়েছে। তাদের দায় রয়েছে। জঙ্গি দমনের বার্তা দিল তাদেরও।
উল্লেখ্য, জেডি ভ্যান্স যখন ভারত সফরে ছিলেন, তখনই পহেলগামে এই মর্মান্তিক হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ভারতবাসীর পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ে সাহায্য করতে প্রস্তুত।
ভ্যান্স তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টেও লেখেন, 'উষা এবং আমি পহেলগামে নিহতদের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাচ্ছি। গত কয়েকদিনে আমরা এই দেশের সৌন্দর্য এবং এখানকার মানুষের আচরণে অভিভূত। যাঁরা এই ভয়াবহ হামলায় শোকগ্রস্ত, আমরা তাঁদের জন্য প্রার্থনা করছি।'
২২ এপ্রিল পহেলগামের বৈসরন ভ্যালিতে ঘটা সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এর পরেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। দীর্ঘদিনের সিনঅধু জল চুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়েও কথা শুরু হয়েছে কোনও কোনও মহলে।