
শেষ আপডেট: 2 October 2023 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জলের তাপমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে ১০২ ফারেনহাইট। সেলসিয়াস স্কেলের হিসেবে তা ৩৯ ডিগ্রি। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রবল খরা। তাতেই বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে গেছে ডলফিনদের পক্ষে। গত সাত দিনে লেকের জলে ভেসে উঠেছে ১০০টিরও বেশি ডলফিনের মৃতদেহ!
ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল যা কিনা পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত, তার মধ্যেই রয়েছে টেফে হ্রদ। সেই লেকের জলেই প্রত্যেকদিন ভেসে উঠেছে একাধিক ডলফিনের মৃতদেহ। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে মামিরাউয়া ইনস্টিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেই রিপোর্টের সত্যতা স্বীকার করে নিয়েছে ব্রাজিলিয়ান মিনিস্ট্রি অফ সায়েন্স। ওই প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে এই বিপুল সংখ্যায় ডলফিনের মৃত্যু অত্যন্ত অস্বাভাবিক, এবং তা দেশটির জীববৈচিত্রের পক্ষে যথেষ্ট আশঙ্কাজনক।
প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, ডলফিনগুলির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তসাপেক্ষ, তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিষয়টি অবশ্যই দেশের সাম্প্রতিক খরা, এবং লেকের জলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
দ্য ওয়াল এখন হোয়াটসঅ্যাপেও। ফলো করতে ক্লিক করুন।
অ্যামাজনের জঙ্গল হল বিশ্বের বৃহত্তম ট্রপিক্যাল রেনফরেস্ট, যা ৫.৫ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। সুবিশাল এই জঙ্গলের আয়তন প্রায় গোটা অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের সমান। চরম আবহাওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই অ্যামাজনের নদী, পুকুর ইত্যাদির জলস্তর হ্রাস পেয়েছে। মাঠঘাট শুকিয়ে কাঠ, ফেটে যাচ্ছে রাস্তা। অন্তত ৫৯টি পুরসভা এলাকায় জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়েও নীচে নেমে গেছে বলে জানা যাচ্ছে।
খরার কারণে সেখানকার অন্তত ১ লক্ষ মানুষ প্রবল সমস্যায় পড়েছেন। জলস্তর কমে যাওয়ায় নৌকা চলাচল প্রায় বন্ধ। যে সব জায়গায় খাবার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে যাওয়ার জন্য জলপথই ছিল একমাত্র ভরসা, সেরকম বহু এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এই এলাকার বাসিন্দাদের সাহায্য করার জন্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে।
যে কটি ডলফিন এখনও বেঁচে রয়েছে, সেগুলিকে সরকারের তরফেই পুকুর, হ্রদ এবং অন্য ছোট জলাশয় থেকে সরিয়ে নদী এবং বড় জলাধারে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে, কারণ সেখানে জল অপেক্ষাকৃত শীতল।
তবে পরিবেশবিদরা ইতিমধ্যেই ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মামিরাউয়া ইনস্টিটিউটের গবেষক আন্দ্রে কোয়েলহো জানিয়েছেন, অন্যান্য নদীতে নদীর ডলফিন স্থানান্তর করা খুব একটা নিরাপদ নয় কারণ, যে কোনও বন্য প্রাণীদের অন্যত্র ছেড়ে দেওয়ার আগে সেখানে টক্সিন বা ভাইরাস রয়েছে কিনা তা যাচাই করা জরুরি।