
শেষ আপডেট: 10 November 2023 10:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লস্কর-ই-তৈইবার আরও এক শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তান পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জঙ্গির নাম আক্রম খান গাজি। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বাইকে চেপে আসা অজ্ঞাত পরিচিত দুই সন্ত্রাসী কাছ থেকে গাজিকে লক্ষ্য করে গুলি করে গা ঢাকা দেয়। গাজিকে নিয়ে ছয় দিনে দ্বিতীয় লস্কর জঙ্গি নিহত হল পাকিস্তানে। গত রবিবার খাজা শাহিদ নামে এক জঙ্গিকে অজ্ঞাত পরিচিত লোকেরা অপহরণ করে। পরে পাকিস্তানের দখলিকৃত কাশ্মীর সীমান্তে তার গলা কাটা দেহ উদ্ধার হয়।
আক্রম ও শাহিদের বিরুদ্ধে ভারতে লাগাতার সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। শাহিদ দুটি জঙ্গি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছে বলে খবর ছিল। অন্যদিকে, কাশ্মীরে জঙ্গি শিবিরে নিয়োগ, প্রশিক্ষণে দায়িত্বপ্রাপ্ত শীর্ষ কমান্ডার ছিল খাজা।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের খবর, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ভূমিতেই সাতজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের সিংহভাগই লস্কর-ই-তৈইবার কমান্ডার। ভারতে জঙ্গি সন্ত্রাসের একাধিক ঘটনায় নাম ছিল এই জঙ্গিদের।
গত সেপ্টেম্বরে রিয়াজ আহমেদ ওরফে আবু কাশেম নামে এক জঙ্গি পাকি অধিকৃত কাশ্মীরের একটি মসজিদের ভিতর নিহত হয়। প্রার্থনা চলা কালে ভিড়ের মধ্যে অজ্ঞাত পরিচিত হামলাকারীরা কাছ থেকে গুলি করে তাকে। রিয়াজ কাশ্মীরের ধাঙরিকে জঙ্গি হামলায় যুক্ত ছিল বলে ভারতীয় প্রশাসনের দাবি।
সাত ভারত বিরোধী জঙ্গির হত্যা ঘিরে চর্চা শুরু হয়েছে কারা এই সন্ত্রাসবাদীদের নিজের দেশে টার্গেট করেছে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেনি তা নয়। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে এতজন ভারত বিরোধী জঙ্গির পাকিস্তানের নিহত হওয়ার নজির নেই। প্রসঙ্গত, অতীতে পাকিস্তান সরকার এই ব্যাপারে ভারতের দিকে আঙুল তুলেছে, যেমন অভিযোগ তুলেছে কানাডা। কানাডায় খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং গুজ্জরের হত্যার ঘটনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পিছনে ভারতীয় এজেন্সির হাত ছিল।
খলিস্তানি জঙ্গি নিহত হয় পাকিস্তানেও। এ বছর মে মাসে লাহোরে নিজের বাড়ির সামনে খুন হয় পরমবীর সিং পঞ্চবার। লস্কর এবং জয়েস-ই-মহম্মদের মতো সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে খলিস্তানিদের সংঘঠিত করার কাজে যুক্ত ছিল পরমবীর। মর্নিং ওয়াক সেরে ফেরার মুখে বাড়ির সামনে তাকে হত্যা করা হয়। তার খুনিরাও মোটর সাইকেলে চেপে এসেছিল। এ বছর খুন হওয়া সাত জঙ্গির একজন বাদে বাকিদের একই কায়দায় খুন করা হয়েছে। কানাডায় হরদীপকেও একই কৌশলে খুন করে দুষ্কৃতীরা।
তবে পাকিস্তানের বর্তমান অন্তবর্তী সরকার এখনও ভারত বিরোধী জঙ্গি হত্যার ঘটনা নিয়ে মুখে খোলেনি। পাকিস্তানি পুলিশও বলার চেষ্টা করছে, হত্যাকাণ্ডগুলির পিছনে আঞ্চলিক বিবাদ কাজ করছে। পাক মিডিয়ার একাংশের দাবি, লস্করের অন্দরে তুমুল গোলমাল চলছে। অর্থ সংকটও তাদের অন্যতম সমস্যা। তার জেরে ক্ষমতার দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে সংগঠনের অভ্যন্তরে।