.webp)
তেহরান যদি ইজরায়েলে হানা দেয়, তাহলে তারাও সমুচিত জবাব পাবে।
শেষ আপডেট: 28 September 2024 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেবাননের বেইরুটের জনবসতির মাঝে প্রবল বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইজরায়েল। দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভার ভাষণে বিশ্বনেতাদের সামনে জোর গলায় জানিয়ে দেন জয় হাসিল না করা পর্যন্ত হামাস ও হিজবুল্লার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ চলবে। গাজা কিংবা লেবাননে হামলা চালানো থেকে বিরত হবে না ইজরায়েল। এমনকী হামাস ও হিজবুল্লার মদতদাতা পরমাণু শক্তিধর ইরানকেও হুঁশিয়ারি দেন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি ইজরায়েলে হানা দেয়, তাহলে তারাও সমুচিত জবাব পাবে। কিন্তু, এত কিছু পরেও প্রশ্ন উঠেছে, যে হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লাকে নিকেশ করার জন্য ইজরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ও দেশের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ হন্যে হয়ে বেড়াচ্ছে, সেই নাসরাল্লার পাত্তা নেই। এখনও তাঁর হদিশ বের করতে পারা যায়নি। তিনি অন্তরালে থেকেই হিজবুল্লাকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন।
শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত লেবাননের দক্ষিণ বেইরুটে হিজবুল্লার শক্ত ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান থেকে হানাদারি চালিয়ে যাচ্ছে ইজরায়েল। বেইরুটে জনবসতি এলাকাতেও বোমাবর্ষণ করে তারা। ইজরায়েলের টিভি চ্যানেলগুলি জানিয়েছে, বাহিনীর মূল লক্ষ্য হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লা। যদিও হিজবুল্লার পক্ষ থেকে ইজরায়েলের নাকে ঝামা ঘষে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নাসরাল্লা নিরাপদে ভালোই আছেন। উল্লেখ্য, গুপ্তঘাতকের হাতে খুন হওয়া থেকে বাঁচতে দীর্ঘ বছর ধরে তিনি আত্মগোপন করে আছেন।
এই অবস্থায় যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যাতে না গড়ায়, সেজন্য বিশ্বের অনেক দেশ ইজরায়েলের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। সেই প্রস্তাব আগেই নাকচ করে দেওয়ার পর, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণসভার ভাষণে নেতানিয়াহু দাপটের সঙ্গে বলেন, ইজরায়েলের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। হিজবুল্লাকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না। বিমানবাহিনীর সঙ্গে স্থলবাহিনীও যোগ দেবে।
ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে নেতানিয়াহু আরও বলেন, হিজবুল্লাকে মদত দিয়ে উত্তেজনায় আরও ইন্ধন জোগাচ্ছে তেহরান। সোজাসাপটা বলেন, যদি আমাদের উপর হামলা হয়, তাহলে আমরাও জবাব দেব। এই যুদ্ধে জেতার জন্য ইজরায়েল গোটা আরব দুনিয়ার সঙ্গে শত্রুতা বেছে নিতে পারে বলেও তাঁর ভাষণে ইঙ্গিত দেন নেতানিয়াহু।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেসকিয়াঁ বেইরুটে হানাদারির জবাবে বলেন, সাধারণ জনবসতি এলাকায় হামলা চালিয়ে ইজরায়েল যুদ্ধনীতি ভঙ্গ করেছে। ইরানের এহেন জবাবে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিগড়ে যেতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।