চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প এমন এক ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যা শুনে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং
শেষ আপডেট: 6 November 2025 09:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াইট হাউসে রিপাবলিকান সেনেটরদের সঙ্গে প্রাতরাশ টেবিলে বসে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক বৈঠক নিয়ে আলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প এমন এক ঘটনার কথা তুলে ধরেন, যা শুনে উপস্থিত সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন।
ট্রাম্প জানান, শি জিনপিংয়ের পাশে ছ’জন করে কর্মকর্তা দাঁড়িয়েছিলেন আর প্রত্যেকেই সোজা হয়ে, হাত পিছনে রেখে, মুখ উঁচু করে! তিনি মজার ছলে বলেন, “ওরা দাঁড়িয়ে ছিল একেবারে অ্যাটেনশন পজিশনে। আমি একজনকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। শি তাঁকে উত্তর দিতেও দিলেন না। আমি চাই, আমার মন্ত্রিসভাও এমন আচরণ করুক।”
এই কথা শুনেই হাসির রোল ওঠে ওই ঘরে। এরপর ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমি জীবনে কোনও পুরুষকে এত ভয়ে ভয়ে থাকতে দেখিনি।” তারপর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে বলেন, “তুমি তো এমন আচরণ করো না। তুমি কথার মধ্যে ঢুকে পড়। অন্তত দু’দিন এমনভাবে বসো দেখি।” ভ্যান্স তখন মজার ছলে সোজা হয়ে বসে পড়েন, আর বাকিরা আবার হাসতে শুরু করে।
Trump: 'I want my Cabinet to be like Xi’s. I’ve never seen men so scared in their lives'
'JD doesn't behave like that. He budges into conversations!'
Says he wants him to be like the Chinese for a couple of days pic.twitter.com/Lo51mAUAA7— RT (@RT_com) November 5, 2025
গত মাসে দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথমবার মুখোমুখি বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। চিন-মার্কিন বাণিজ্যিক টানাপড়েন (US China Relation), প্রযুক্তি নীতি, বিরল খনিজ নিয়ন্ত্রণ - সবই ছিল বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। বিশেষ নজর ছিল বিরল খনিজের ওপর। মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক যান থেকে যুদ্ধবিমান, অসংখ্য আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি এই উপাদান। বিশ্ব বাজারে যার নিয়ন্ত্রণ মূলত চিনের হাতে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে জি২০ সম্মেলনে শি-ট্রাম্প বৈঠকে দু’পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব কমিয়ে সহযোগিতার পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছিল। তখনও শি জানিয়েছিলেন, সংঘাত নয়, সমঝোতার মধ্যেই দুই দেশের লাভ। ট্রাম্পও সেই সময়ে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী বছরগুলিতে সম্পর্ক বারবার উত্তপ্ত হয়েছে নানা বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্তে।
চিন-আমেরিকার মধ্যে শুল্ক-সংঘাতের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে, তবে সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে বলেই জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। গত সেপ্টেম্বর থেকে চিন আমেরিকার সয়াবিন কেনা বন্ধ রেখেছিল, যা ফের শুরু হতে পারে শীঘ্রই-এমনটাই আশাবাদী মার্কিন প্রশাসন।