দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূমিকম্পের বিভীষিকায় বিপর্যস্ত মায়ানমার ও থাইল্যান্ড। মৃত্যুর সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ২০০০। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়া মানুষের বেঁচে থাকার আশা যখন প্রায় নিভে আসছিল, তখনই ঘটল এক অলৌকিক ঘটনা। সোমবার মায়ানমারের মন্দালয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে চারজনকে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও এক ছোট্ট শিশু।
যখন মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে, তখন এই জীবনদানের মুহূর্ত যেন নতুন আশার আলো হয়ে এল উদ্ধারকারী দলের জন্য। টানা অনুসন্ধানের পর এই চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যা প্রায় অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।
এদিকে, ভূমিকম্পের ধাক্কায় ব্যাঙ্ককে ধসে পড়া বহুতলের নীচেও এখনও অনেকে জীবিত থাকতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও প্রথম দিকে থাইল্যান্ডের প্রশাসনের ধারণা ছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই। তবে নতুন করে সেখানেও প্রাণের স্পন্দন মিলেছে।
ব্যাঙ্ককের ডেপুটি গভর্নর তাভিদা কামোলবেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দলকে ওই অঞ্চলে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বহুতল ধসে ৭৫ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমরা হাল ছাড়ব না।'
মায়ানমার সরকার জানিয়েছে, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২০৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে হিসেব মিলেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ২৭০ জন। যদিও বেসরকারি সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার পার হতে পারে। দেশজুড়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও ভয়াবহ। ১৫৯১টি বাড়ি, ৬৭০টি বৌদ্ধ মঠ, ৬০টি স্কুল, তিনটি সেতু ও ২৯০টি প্যাগোডা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই শোচনীয় পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
ভারতের জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও (NDRF) মায়ানমারে উদ্ধারকাজে সাহায্য করছে। সোমবার তারা ৯ জনের দেহ উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি দেহ মিলেছে ইউ হ্লা থিয়েন বৌদ্ধ মঠ থেকে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মন্দালয়ের এই মঠে প্রায় ১৭০ জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী চাপা পড়ে থাকতে পারেন। এনডিআরএফ কর্মীরা অন্তত ১৩টি জায়গায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে এত বিপন্ন পরিস্থিতিতেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে যখন নতুন জীবনের চিহ্ন দেখা যায়, তখনই বোঝা যায়, মানুষের বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি কতটা অদম্য। উদ্ধারকারীরা এখনও প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কারণ ধ্বংসস্তূপের নীচে হয়তো এখনও কেউ অপেক্ষা করছে— আরও এক অলৌকিক উদ্ধারের জন্য।