কাবুল বিমানবন্দরে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের মধ্যেই পরপর রকেট হামলা, আতঙ্কে ঘুম উবেছে বাসিন্দাদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী (Us Forces) ও মিত্র বাহিনী, সেদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের বিমানে ফেরানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে (Kabul Airport) রকেট হামলা। একাধিক রকেট (Multiple Rocke
শেষ আপডেট: 30 August 2021 06:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে মার্কিন সেনাবাহিনী (Us Forces) ও মিত্র বাহিনী, সেদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের বিমানে ফেরানোর তোড়জোড়ের মধ্যেই কাবুল বিমানবন্দরে (Kabul Airport) রকেট হামলা। একাধিক রকেট (Multiple Rockets) আছড়ে পড়েছে বলে খবর। ৫টি রকেট ছোঁড়া হয়েছে, তবে সবগুলিই এয়ারপোর্টের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী সিস্টেমে ধাক্কা খেয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত জনৈক তালিবান নেতা (Taliban official)। কোনও প্রাণহানির খবর নেই।
গত বৃহস্পতিবার কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে তালিবান বিরোধী আইসিস জঙ্গিদের ঘটানো জোড়া বিস্ফোরণে ১৩ মার্কিন জওয়ান সহ শতাধিক মানুষের মৃত্যু ও অসংখ্য লোক জখম হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সন্ত্রাসবাদীদের চরম প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি ফের নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।
আরও পড়ুন---মার্কিন সেনা সরলেও ১০০ টি দেশের নাগরিকদের বিনা বাধায় চলে যেতে দেবে তালিবান
মার্কিন সেনাকর্তার (US Official) দাবি, রকেটগুলি প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও মিডিয়ায় বেরনো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি ভবন রকেটের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন (local people) আতঙ্কিত, সন্ত্রস্ত। আইসিসের নাশকতায় রক্তে ভেসেছে বিমানবন্দর এলাকা। রক্তে মাখামাখি লাশের ছবি দেখেছে গোটা দুনিয়া। সেই ছবিতে প্রতি মুহূর্তে তীব্র উদ্বেগ, ভীতিতে জীবন কাটছে তাঁদের। বিমানবন্দরের কাছেই থাকেন জনৈক আবদুল্লা। তিনি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, আমেরিকানরা বিমানবন্দরের দখল নেওয়ার পর থেকে ঠিকমত ঘুমোতে পারছি না (sleepless) । হয় গোলাগুলি, রকেট হানা চলছে। বিশাল প্লেনের বিকট শব্দ, সাইরেনের শব্দে চোখে ঘুম নেই। এখন গুলি, রকেট হামলা চলছে নির্দিষ্ট টার্গেট নিশানা করে। আমাদের জীবন বিপদের মুখে।
এএফপির এক ফটোগ্রাফার লঞ্চার সিস্টেমের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি গাড়ির ছবি তুলেছেন। দেখা যাচ্ছে, গাড়ির পিছনের আসনে পড়ে আছে লঞ্চার সিস্টেমটি। বিমানবন্দর থেকে প্রায় ২ কিমি দূরে সন্দেহভাজন মার্কিন ড্রোন আছড়ে পড়েছিল গাড়িটির ওপর।
বাইডেন আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা স্থির করেছেন। ফলে ২০০১ এর ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী হামলার জবাবে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে কাল। এপর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে কাবুল বিমানবন্দর থেকে বিমানে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তালিবানের ফেরার আতঙ্কে প্রচুর আফগান নাগরিকও দেশ ছাড়তে মরিয়া।
হোয়াইট হাউসের তরফে বিমানবন্দর নিশানা করে রকেট হামলার কথা স্বীকার করেও বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী সরানোর কাজ লাগাতার চলছেই। প্রেসিডেন্ট ফের আদেশ দিয়েছেন, আমাদের বাহিনীকে রক্ষা করতে যা যা দরকার, তাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে দ্বিগুণ প্রয়াস চালাতে হবে কম্যান্ডারদের।