.webp)
মেরিন লা পেঁ-র কড়া সমালোচনার মুখে পড়লেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপে।
শেষ আপডেট: 7 July 2024 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংলিশ চ্যানেলের দুইপারে দু'রকম ছবি। লন্ডনে রাজনৈতিক হাওয়া বাঁয়ে ঘুরছে। যদিও লেবার দলকে এখন আর ঠিক সেই অর্থে 'বামপন্থী' বলা চলে না। যাতে না বলা হয়, তার জন্য চেষ্টাতেও কোনও ত্রুটি রাখছেন না কিয়ের স্টার্মার। কিন্তু তাতেও, মোটের ওপর চারশো পার করা লেবারের সাফল্যে টেমসের তীরের রথীমহারথীরা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন। এদিকে একেবারেই উল্টো ছবি প্যারিসে। ইমানুয়েল ম্যাকরঁর ঘটি তো উল্টেছেই, হাওয়া ঘুরিয়ে প্রায় ঝড় তুলে দিয়েছেন উগ্র দক্ষিণপন্থী মেরিন লা পেঁর ন্যাশনাল র্যালি। যাতে শঙ্কিত ফরাসি বুদ্ধিজীবী মহল থেকে টেনিস বা ফুটবল তারকা সকলেই।
জার্মানিতে এই মুহূর্তে ইউরো সেমিফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। কিন্তু সাংবাদিক সম্মেলনে দিদিয়ের দেশোঁর সঙ্গে কিলিয়ান এমবাপে এলেই ফরাসি সাংবাদিকরা জোরদার গলায় রাজনৈতিক প্রশ্ন করছেন। দেশোঁ এই নিয়ে বিরক্ত। কিন্তু কিলিয়ান এমবাপে সটান বলেছেন, ভোটের ফলাফল 'ভয়ানক'। দেশের লোকজন যাতে উগ্রবাদীদের ক্ষমতায় না আনে, সেদিকে জোর দিতে হবে। এমবাপে অবশ্য কারোর নাম করেননি। কিন্তু সাংবাদিকরা যা বোঝার বুঝে নিয়েছেন। সারা পৃথিবীর তাবড় সংবাদমাধ্যমে এমবাপের বক্তব্য শিরোনাম হয়েছে।
এবার এমবাপেকে পাল্টা বিঁধলেন ন্যাশনাল র্যালি সভানেত্রী মেরিন।
সংবাদসংস্থা সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন মেরিন। নানা প্রশ্নের ফাঁকে উঠে এসেছিল ফুটবলারদের মন্তব্যের কথা। সঞ্চালক ক্রিস্তিয়ান অ্যামানপোর প্রশ্ন করেন, 'আপনি কি কিলিয়ান এমবাপেকে পছন্দ করেন?'
মেরিন হেসে বলেন, 'সত্যি বলতে, আমি অতটা ফুটবলভক্ত নই। লুকোবো না।' পরে যোগ করেন, 'আমি মনে করি, মসিয়েঁ এমবাপে একজন খুব ভাল ফুটবলার। কিন্তু এই যে ফুটবলার বা সঙ্গীতশিল্পীদের ফরাসি জনসাধারণকে বলে দেওয়া, কাকে ভোট দিতে হবে বা কাকে ভোট দেওয়া উচিত নয়, এটা ঠিক নয়। বিশেষ করে এইসব ব্যক্তিরা অনেকেই কোটিপতি, বাইরে থাকেন। এদিকে তাঁরা বলে দিচ্ছেন মানুষ কাকে ভোট দেবে! যে মানুষ মাসে দেড় হাজার ইউরো হয়ত আয় করেন। এইসব লেকচার শুনে শুনে ফরাসি জনগণ ক্লান্ত!' কিন্তু সঞ্চালক জানালেন, এমবাপে এরকম কোনও 'লেকচার' দেননি বা কাউকে ভোট দিতেও বলেননি। বলেছেন, তিনি যে ফ্রান্সের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই ফ্রান্সের ধারণা, তাঁর মতামত বা দর্শন আপনার মতের সঙ্গে মেলে না। শুনে শীতল গলায় মেরিন বললেন, 'হ্যাঁ, সেটা তো বুঝতেই পারছি। কিন্তু দেখুন... এইসব লোকজন বরং ভাগ্যবান, তাঁরা ফ্রান্সে আরামে থাকতে পারছেন। তাঁদের দারিদ্র্য, বা বেকারত্বের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। যেগুলো আমার দেশবাসীকে সামলাতে হচ্ছে। ফলে, ভোট যখন চলছে, তখন তাঁদের একটু হলেও সংযত থাকা উচিত।'
সঞ্চালক তারপরেও প্রশ্ন করেন, 'কিন্তু এমবাপে তো যে ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসছেন, তাঁদের তো দারিদ্র্য বা বেকারত্বের মোকাবিলা সারাক্ষণই করতে হচ্ছে...'
এবার মেরিন আর কোনও রাখঢাকে না গিয়ে স্পষ্ট বলে দিলেন, 'দেখুন, এবার একটা কথা বলি। মসিয়েঁ এমবাপে বাইরে থেকে এসে ফরাসি জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। কারণ তাঁর থেকে অনেক বেশি ফরাসি সাধারণ মানুষ নূন্যতম মজুরিতে বসবাস করছেন, যারা মাথার ওপরে ছাত বা শীতকালে সামান্য হিটিং ব্যবস্থাটুকুও করতে পারেন না।'
কিলিয়ান এমবাপে এই বক্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া দেন, এবার সেটাই দেখার।