
শেষ আপডেট: 11 January 2024 15:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাপোলি মানেই মনে আসে দিয়েগো মারাদোনার (Diego Maradona) কথা। যিনি এই ক্লাবকে বিখ্যাত করেছেন, তাকে বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠা দিয়েছেন। ১৯৯০ সালে মারাদোনার হাত ধরে শেষবার নাপোলি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সিরি আ লিগে। এমনকী ১৯৮৭ সালেও নাপোলির লিগ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন মারাদোনা। নাপোলি (ইতালির ভাষায়)বা নেপলস শহর দিয়েগো মারাদোনার স্মৃতিবিজড়িত। ফুটবল ঈশ্বরকে এখনও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে এই শহর। তিনি না থেকেও যেন এখানে আছেন, থাকবেন। এই শহরের আরও একটা আকর্ষণ হল একটি বহুতল আবাসনের গায়ে মারাদোনার বিশালাকার দেওয়ালচিত্র। এটি ভাঙা নিয়েই তুলকালাম চলছে নাপোলিতে।
১০ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর ওই আবাসন পুনর্বাসন প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েছে ন্যাশনাল রিকভারি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্ল্যান। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হল, পুরনো আবাসন ভেঙে নতুন বিল্ডিং তৈরি করা। সান জিওভান্নি তেদুচি এলাকায় দুটি আবাসিক ভবন ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করার কাজ চলছে। তার মধ্যে একটি ওই আবাসন যেখানে মারাদোনার বিশাল দেওয়ালচিত্র রয়েছে। নেপলসের বাসিন্দাদের কাছে ওই আবাসনের বিশেষ গুরুত্বও রয়েছে। তাই আবাসন ভাঙার খবর শুনেই তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়েছে নাপোলিতে।
২০১৭ সালে এই দেওয়ালচিত্রটি তৈরি করেছিলেন স্ট্রিট আর্টিস্ট জোরিৎ। এই দেওয়ালচিত্রে মারাদোনাকে ‘মানব-ঈশ্বর’ হিসেবে তুলে ধরেছেন জোরিৎ। ১৯৮৭ সালে মারাদোনার হাত ধরে নাপোলি ইতালিয়ান লিগের শিরোপা জেতার ৩০ বছর পূর্তিতে বানানো হয়েছিল দেওয়ালচিত্রটি। তবে এখন আবাসনটি ভেঙে ফেললে দেওয়ালচিত্রটিও গুঁড়িয়ে যাবে। সেখানেই আপত্তি জানিয়েছেন নাপোলির বাসিন্দারা।
মারাদোনার দেওয়ালচিত্র নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ চলছে নাপোলিতে। অধিবাসীরা দাবি করেছেন, আবাসন যদি ভাঙতেই হয় তাহলেও যেন দেওয়ালচিত্রটি অক্ষত থাকে। সেটি ভেঙে দেওয়া মানে নাপোলির সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া। কারণ নাপোলি মারাদোনাকেই তাদের ঈশ্বর হিসেবে মানে। এখন মারাদোনার জন্মদিন ও মৃত্যুদিন পালন করা হয় শ্রদ্ধার সঙ্গে। ওই ভবনটি পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রও বটে।