
অক্সফোর্ডে মমতার বক্তৃতা চলাকালীন বিক্ষোভ-প্রতিবাদ।
শেষ আপডেট: 28 March 2025 07:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার মাঝে বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরি করেন শ্রোতাদের একাংশ। রাজ্যের বিনিয়োগ পরিস্থিতি থেকে শুরু করে আরজি কর-- বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। চিৎকার করেন, থামিয়ে দেন বক্তৃতা। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন, 'এখানে মিথ্যে কথা বলে আমাকে অপমান না করে বাংলায় গিয়ে নিজেদের দলকে শক্তিশালী করুন।'
ঘটনার কিছু পরে সোশ্যাল মাধ্যমে কেলগ কলেজের কিছু ছবি ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রশ্নকর্তাদের বেশির ভাগই সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের ইউকে ইউনিটের সদস্য।
এর পরেই এ প্রসঙ্গে ফেসবুকে কড়া বার্তা বার্তা দেন তৃণমূলের তরুণ নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, ইউকে-তে এসএফআইয়ের ইউনিটের তরফ থেকে সম্প্রতি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠিও দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠান না করেন। দেবাংশুর কথায়, 'কর্তৃপক্ষ ওদের দাবি মেনে না নেওয়ায় ওরা সভাগৃহে ঢুকে অসভ্যতা করল।'
তৃণমূল নেত্রী হিসেবে নয় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে লন্ডনে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ কথা মনে করিয়ে দেবাংশু বলেন, 'বিদেশের মাটিতে সিপিএম যে নোংরামিটা করল, কলতলার স্টাইলে পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করল, তাতে বাংলার মানুষের কাছে ওরা আরও ছোট হয়ে গেল। এভাবে আর যাই হোক, শূন্য থেকে ওরা বেড়ে উঠতে পারবে না।'
প্রসঙ্গত, বিরোধিতার মুখে পড়ে মেজাজ হারানো দূরে থাক বরং পোড়খাওয়া রাজনীতিকের মতোই, অত্যন্ত ধৈর্য ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্থিতির সামাল দেন। দীর্ঘ এক ঘণ্টার বক্তব্যের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'একটা জনপ্রিয় গান আছে, ইফ ইউ মিস দ্য ট্রেন আই অ্যাম অন, ইউ উইল নো দ্যাট আই অ্যাম গন! ইউ ক্যান হিয়ার দ্য হুইসেল ব্লো এ হান্ড্রেড মাইলস...'
বিদ্রুপের সুরে মুখ্যমন্ত্রী এও বলেন, 'ইউ হ্যাভ লস্ট ইয়োরসেলফ, ইউ হ্যাভ লস্ট ইয়োরস ক্রেডেনশিয়াল, বাট মাই ক্রেডেনশিয়াল ইজ ওনলি অল অফ ইউ!' অর্থাৎ আপনি আপনার যোগ্যতা হারিয়েছেন, কিন্তু আমার যোগ্যতা রয়েছে মানুষের সঙ্গে আছি বলে! তিনি নিজের পুরনো ছবিও দেখান মঞ্চে, যে কীভাবে সিপিএমের অত্যাচারের শিকার তিনি।
দেবাংশুর মতে, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসিমুখে যেভাবে এসএফআইয়ের লন্ডনের উচ্চিংড়েগুলোর মুখে জুতো মারলেন তা আদতে বাংলার সিপিএম নেতাদের গালেই এসে পড়ল!'
বিদ্রুপের সুরে দেবাংশু এও বলেন, 'সিপিএমের রাগ হওয়াটাই স্বাভাবিক। ওরা একসময় তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও মুখে নিত না। সেই মহিলা আজ অক্সফোর্ডের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বক্তৃতা করছেন তাতে তো রাগ হবেই। আসলে এটা করে সিপিএম আবার নিজেদের জাতটাকে চেনাল!'
দেবাংশুর কথায়, 'সিপিএম কোনও রাজনৈতিক সংগঠন নয়। এটি একটি ভারত বিরোধী, বঙ্গ বিরোধী, মানবতাবিরোধী, সংগঠন।' এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর অসীম ধৈর্যের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বলেন, 'আপনার জায়গায় আমি থাকলে পারতাম না। আপনি হাসিমুখে যে জুতোগুলো ওদের মুখে মেরেছেন, সেই প্রত্যেকটা জুতোর বাড়ি আসলে ওদের বাংলার নেতাগুলোর মুখে পড়েছে। বাংলা সবরকমভাবে এর হিসেব নেবে। ভোটের আগে, ভোটের সময় এবং ভোটের পরে।'