
মহম্মদ মুইজ্জু
শেষ আপডেট: 12 June 2024 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর তিনি যে পরপর ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন, তা থেকে হয়তো এবার দূরে সরে আসছেন মহম্মদ মুইজ্জু। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। মুইজ্জুর এই ভারত সফরের পরই নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর মুইজ্জু নিজেও এই সফরকে 'সফল' বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
'চিনপন্থী' রাষ্ট্রনেতার জন্যই যে ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে তা মনে করে আন্তর্জাতিক মহল। তবে তাঁকেই মোদী তাঁর শপথগ্রহণে ডেকেছেন এটা দেখার পর কৌতূহল তৈরি হয়েছে সকলের মনে। তাহলে কি আগামী দিনে ভারত-মালদ্বীপের মধ্যে রসায়ন বদলাবে? শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ভবনে যে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল তাতেও পাশাপাশি দেখা গেছিল মোদী এবং মুইজ্জুকে।
এই ভারত সফর এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বার্তালাপের পরই মুইজ্জু দাবি করেছেন, ''ঈশ্বর আছেন। আশা করি ভারতের সঙ্গে মালদ্বীপের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। দুই দেশের মধ্যে যে সুসম্পর্ক আছে তা বজায় থাকবে। প্রত্যেক মালদ্বীপবাসীর আমার এই সফল ভারত সফর থেকে সুবিধা পেতে চলেছে।''
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পদে শপথের দিনই মুইজ্জু ভারতীয় সেনাকে দেশ ছাড়তে বলেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত-বিরোধী প্রচারও চালিয়েছেন তিনি। কিন্তু লোকসভা নির্বাচনে মোদী শিবিরের জয়ের পর তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন মুইজ্জু। সেই থেকেই জল্পনা তৈরি হয়েছিল যে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ বদলাবে কিনা।
নয়া দিল্লির কর্তারা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদে নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে মুইজ্জু যে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে চিনের মদত ছিল। তাঁদের অনুমান, চিন ভারত মহাসাগরের উপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে। আর মালদ্বীপে ভারতীয় সেনা ও যুদ্ধ জাহাজের উপস্থিতি তাদের উপস্থিতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণেই কার্যত মালদ্বীপের কাঁধে বন্দুক রেখে সে দেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার করানোর চেষ্টা করেছে তারা। এখন নরেন্দ্র মোদী ৩.০ সরকারের নীতি মালদ্বীপের ক্ষেত্রে কী হতে চলেছে সেটাই দেখার বিষয়।