
শেষ আপডেট: 19 October 2023 15:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে এক হিন্দু দলিত মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ উঠল। ওই মহিলা তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ, আদালত মেয়েটির আবেদন শোনেনি। ওই মহিলার কাতর কান্নায় কর্ণপাতও করেনি।
মাস দুয়েক আগে এই ঘটনা ঘটে। রাজিতা মেঘওয়ার কোলহি নামে ওই মহিলাকে তাঁর বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। রাজিতা সম্প্রতি তাঁর অবস্থার কথা জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, অপহরণ করে তাঁকে ধর্মান্তরিত করা হয়। তারপর এক মুসলিম ছেলের সঙ্গে জোরজবরদস্তি বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। রাজিতা জানিয়েছেন, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধেই তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁকে বন্দি করে রেখা হয়েছিল।
গত ১৫ অক্টোবর সেই বন্দিদশা থেকে কোনওরকমে পালিয়ে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্বারস্থ হন রাজিতা। ওই সংগঠনই আশ্রয় দেয় তাঁকে। ওই সংগঠনের সাহায্যেই একটি দৈনিক পত্রিকাকে সাক্ষাৎকার দেন রাজিতা। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দু সংখ্যালঘু কিশোরী, মহিলাদের জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। তাদের জবরদস্তি মুসলিম ছেলেদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজিতা পালিয়ে আসার পরেও শান্তিতে নেই। প্রতি মুহূর্তে হুমকি দিচ্ছে অপহরণকারীরা। এমনকী রাজিতার পরিবারের সকলকে খুন করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
প্রাণে বাঁচতে আদালতে আপিল করেছিলেন রাজিতা। কিন্তু সেখান থেকেও বারে বারে ফিরে আসতে হচ্ছে তাঁকে। রাজিতার আইনজীবী বলছেন, পাকিস্তানের ওই আদালতে রাজিতার আবেদন গ্রাহ্য হয়নি। রাজিতা বারে বারেই আবেদন করেছেন তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চান। কিন্তু সে কথায় আমলই দিচ্ছে না আদালত।
পাকিস্তানের ক্রিকেটার দানিশ কেনারিয়া এই ঘটনা নিয়ে টুইট করেছেন। তিনি বলেছেন, “জোর করে ধর্মান্তর মানবতার বিরোধী। পাকিস্তানের কোনও আদালতে হিন্দু মেয়েদের আবেদন গ্রাহ্য হয় না। মেয়েটিকে সুবিচার দিতে ব্যর্থ পাক আদালত। তাই বারে বারেই অপরাধীরা একই অপরাধ ঘটিয়ে চলেছে।“