দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছর প্যাঙ্গং লেকে রক্তারক্তি, খুনোখুনির পর নয়াদিল্লি-বেজিংয়ের সম্পর্ক কোন তিক্ততায় পৌঁছেছে তা ঠাওর করা গিয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক যখন চোখে চোখ রাখার জায়গায় পৌঁছেছে তখন দুই দেশের সিনে-রাজনীতিতে দুটি বিপরীতমুখী ঘটনা ঘটে গেল সোমবার। একদিকে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত ঘোষণা করে দিয়েছেন তিনি আর রাজনীতিতে থাকবেন না। ভেঙে দিয়েছেন তাঁর দলও। ওদিকে হলিউডের মার্শাল আর্ট কিংবদন্তি হংকংয়ের জ্যাকি চ্যান জানিয়েছেন তিনি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ নিতে চান।
জ্যাকি চ্যান যে কমিউনিস্ট পার্টির উপর দুর্বল তা আগেই টের পাওয়া গিয়েছিল। ২০১৯ সালে হংকংয়ের রাস্তায় যখন চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌবনের উদ্বেলিত তরঙ্গ বইছে, সেই ঢেউ থামাতে যখন বেজিং উগ্র হয়ে নেমেছে তখন অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন আর একটা তিয়েনান মেন স্কোয়্যার হতে যাচ্ছে না তো? সেই সময়ে মার্শাল আর্ট কিং বলেছিলেন, এ আসলে বেজিংয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
গত ১ জুলাই চিনা কমিউনিস্ট পার্টির শতবর্ষ পূর্তি হয়েছে। সেই উপলক্ষ্যে নানান অনুষ্ঠান হচ্ছে দেশজুড়ে। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি বিরাট শাখা রয়েছে সেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের পেশাদাররা রয়েছেন। তাঁদেরই একটি আলোচনা চক্রে যোগ দিয়ে জ্যাকি চ্যান ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি সিপিসি-র সদস্যপদ পেতে চান।
বস্তুত সোভিয়েত পতনের পর সারা বিশ্বের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে যে দুটি বিষয় সবচেয়ে আলোচ্য হয়ে উঠেছিল তা হল গ্লাসনস্ত আর পেরেস্ত্রৈকা। ২০০৭ সালে সিপিসি-র পার্টি কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পার্টি সদস্য পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নিবিড় ছাঁকনি ব্যবহার করা হবে। যদিও তারপর প্রতি বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রের কৃতীদের সাম্মানিক মেম্বারশিপ রেওয়াজ চালু রেখেছে বেজিং। জ্যাকি চ্যানের সদস্যপদ নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই প্রকাশ করেছে চিনা সরকারের সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস। তা দেখেই অনেকে বলছেন, হলিউড তারকার মেম্বারশিপ পাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।
জ্যাকি বলেছেন, "হংকংয়ে আমি জন্মেছি। হংকংয়ে আমার বাড়ি। চিন আমার দেশ।" স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছেন, তিনি হংকংকে চিন থেকে পৃথক করে দেখতে চাইছেন না। এও বলেছেন, "আমি পৃথিবীর যেখানেই যাই সেখানেই চিনের প্রশংসা শুনি। পাঁচ তারা খচিত লাল পতাকার প্রতি সকলেই শ্রদ্ধাশীল। বিশেষত গত কয়েক দশকে চিন যে ভাবে তার বিকাশকে তরান্বিত করেছে তা সারা দুনিয়ায় তারিফযোগ্য।"