
শেষ আপডেট: 11 October 2023 21:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার জরুরি অবস্থার সরকার গঠন করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সে দেশের বিরোধী দলনেতা বেনিজ গান্তজ।
গাজায় হামাসের সশস্ত্র বাহিনীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। বিমান হানার পর এবার গ্রাউন্ড অ্যাটাকে নেমে পড়েছে তারা। প্রায় ৩ লক্ষ সেনার বাহিনী নেমে পড়েছে গাজা তছনছ করে দিতে। ইজরায়লের গোয়েন্দারা মনে করছে, প্যালেস্তাইনের অনক্লেভের উত্তরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখনও হামাস জঙ্গিরা রয়েছে। সেখান থেকে যুদ্ধ চালাচ্ছে তারা। এদিকে ইজরায়েল অবশ্য এখনও বিপদ মুক্ত নয়। হামাসের সশস্ত্র বাহিনী এখনও অনেককে পণ বন্দি করে রেখেছে। সেটাই এখন হামাসের তুরূপের তাস। এহেন পরিস্থিতি যুদ্ধকালীন সরকার গঠনে রাজি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণপন্থী নেতা। দেশের প্রাক্তন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা বেনি গান্তজের সঙ্গে এদিন কৌশলে হাত মিলিয়েছেন তিনি। যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এখন পুরোপুরি যুদ্ধের উপর নজর দেওয়া হবে।
এমনিতে ঘরোয়া রাজনীতিতে নেতানিয়াহু বেশ দুর্বল অবস্থায় ছিলেন। দেশের বিচারব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার যে চেষ্টায় তিনি নেমেছিলেন, তাতে ইজায়েলের বহু মানুষ ক্ষিপ্ত ছিলেন। কিন্তু হামাসের আঘাতের জবাব দিতে গিয়ে, তিনি দেশে জাতীয়তাবাদের হাওয়া তুলে দিয়েছেন। আর তা দিয়ে গদি বাঁচাতে মরিয়া। বিরোধীরা অবশ্য গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়ে ইতিমধ্যে সওয়াল করতে শুরু করে দিয়েছে।
গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইজরায়েলের ১২০০ জন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত প্রায় ৩ হাজার মানুষ। জবাবে গাজায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলি বাহিনী। ইতিমধ্যে হামাসের বহু ঘাঁটি তারা গুড়িয়ে দিয়েছে। তা করতে গিয়ে প্রাণ গিয়েছে বহু নিরীহ মানুষেরও। গাজায় জল, বিদ্যুৎ, খাবার সরবরাহও বন্ধ করে দিয়েছে ইজরায়েল। তাতে এখন বিপন্ন অবস্খা ২৩ লক্ষ মানুষের।
এই অবস্খায় গোটা দুনিয়া প্রায় আড়াআড়ি ভাবে বিভক্ত। একাংশ হামাসের জঙ্গি হানার তীব্র সমালোচনা করছে। কিন্তু অপর একটি অংশ হামাসের হামলা সমালোচনা করেও দায়ী করছে ইজরায়েলকে। প্যালেস্তিনীয়রা সেখানকার ভূমিপুত্র। কিন্তু তাঁদের নিজেদের দেশেই তাঁরা স্বাধীন নয়। ইজরায়েল তাদের চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন বহু মানুষ। তাঁরা বলছেন, যা এখন ঘটছে তা ভবিতব্যই ছিল।