
শেষ আপডেট: 8 November 2023 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ছ’মাস বাকি ছিল বিয়ের। এখনও আলমারিতে ঝুলছে বিয়ের পোশাক। কিন্তু সেই অভিশপ্ত ভোরেই যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় জীবন। হামাসের হামলা থেকে হবু স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ যায় যুবকের। মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ২২ বছরের নেট্টা এপস্টেইনের দেহ। সেই দিনটির কথা মনে করে আজও কেঁপে ওঠে তাঁর বাগদত্তা। হবু স্বামীর স্মৃতিকে আকঁড়ে ধরেই বাঁচার চেষ্টা করছেন ইরেন শ্যাভিট।
গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েল ভূখণ্ডে ঢুকে হামলা চালায় প্যালেস্তিনীয় সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তারা ইজরায়েলি নাগরিকদের পণবন্দি হিসাবে গাজায় নিয়ে যায়। ওইদিন হামাসের হামলায় ১৪০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। মৃতেরা অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক বলে দাবি ইজরায়েল প্রশাসনের। তালিকাতে ছিলেন এপস্টেইনও।
এক মাস কেটে গেলেও সেই ভোরের কথা ভেবে আজও কেঁপে উঠছেন শ্যাভিট। ইজরায়েলি তরুণী জানিয়েছেন, হবু স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখতেই এপস্টেইন মৃত্যুবরণ করছেন। তাই তাঁকে বেঁচে থাকতে হবে। যুবতীর কথায়, ‘‘আমাকে ও বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছিল। তাই আমি না বাঁচলে প্রতারণা করা হবে। আবার বেঁচে থেকেও আমি প্রতারণা করছি বলেই মনে হচ্ছে।''
ঠিক কী হয়েছিল ওইদিন? তরুণী জানান, ভোর সাড়ে ৬টা নাগাদ আচমকা ‘রেড অ্যালার্ট’-এর তীব্র শব্দে তাঁদের ঘুম ভেঙে যায়। যদিও প্রাথমিকভাবে কী হচ্ছে বুঝে উঠতে পারেননি কেউই। একে একে সকলের ফোনে সতর্কবার্তা আসতে থাকে। হামাসকে ঠেকানোর যে সাধ্যও ছিল না ইজরায়েলের সাধারণ মানুষের। কোনওরকমে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। শুধু এপস্টেইনই নয়, চোখের সামনে খুন হতে দেখেন যুবকের পরিবারের আরও সদস্যদেরও। কোথায়, কারা আক্রমণ করছে, তখন কেউই কিছু জানতে পারছিল না। আত্মরক্ষার কোনও উপায়ও খুঁজে পাচ্ছিলেন তাঁরা। বীভৎস বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্না ধরে রাখতে পারেননি তরুণী।
শ্যাভিট জানিয়েছেন, তাঁদের ঘরে গ্রেনেড ছুড়েছিল হামাস বাহিনী। তাঁকে বাঁচাতে সেই গ্রেনেডের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁর হবু স্বামী। তারপর ঘরে আগুন ধরিয়ে পালায় হামলাকারীরা। কোনও রকমে লুকিয়ে বেঁচেছিলেন তিনি। কয়েক ঘণ্টা পরে ইজরায়েলি উদ্ধারকারীদের ডাকে বেরিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু সেই বিধ্বংসী ঘরের মধ্যেই যে তাঁর জীবন থমকে গিয়েছে সেটা কিছুক্ষণের মধ্যেই বুঝতে পারেন শ্যাভিট।
২০২২ সালের এপ্রিল মাসে এপস্টেইনের সঙ্গে শ্যাভিটের দেখা হয়েছিল। প্রথমে বন্ধুত্ব আর তারপর তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৭ অক্টোবর, হামাসের হামলার দিনই তাঁদের একসঙ্গে শহরের ঘুড়ির উৎসবে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ওইদিনই যে প্রিয় মানুষটিকে চিরতরে হারিয়ে ফেলবেন তরুণী সে কথা চরম দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি।