
শেষ আপডেট: 1 November 2023 11:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে খেলছিল বাচ্চারা। মায়েরা খাবারের ব্যবস্থা করছিলেন। আচমকাই কেঁপে উঠল চারদিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে এসে পড়ল গাজার অন্যতম বড় শরণার্থী শিবিরের উপর। বিকট বিস্ফোরণে উড়ে গেল আস্ত বাড়িটা। চারদিকে নেমে এল শ্মশানের স্তব্ধতা। ছিন্নভিন্ন মৃতদেহ, নারী-শিশুদের ক্ষতবিক্ষত দেহ ছড়িয়ে রইল চারদিকে। গাজায় আবারও ভয়ঙ্কর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজরায়েল।
ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) জানিয়েছে, উত্তর গাজ়ার সবচেয়ে বড় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। হামাসের উচ্চপদস্থ এক কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারি নাকি ওই শরণার্থী শিবিরেই লুকিয়ে ছিলেন বলে দাবি আইডিএফের। ইব্রাহিমের সঙ্গেই তাঁর অনেক সাঙ্গোপাঙ্গোরাও সেখানে গা ঢাকা দিয়েছিল। হামাস কম্যান্ডার বিয়ানি গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলের উপরে হামলার জন্য দায়ী ছিলেন বলেই দাবি আইডিএফের। তাদের নিকেশ করতেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে বলে দাবি ইজরায়েলের। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫০ জন মারা গিয়েছেন। ১৫০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
আইডিএফের তরফে জানানো হয়েছে, এয়ারস্ট্রাইকে হামাসের মাটির নীচের একাধিক গোপন ঘাঁটিও ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও হামাসের মিলিটারি শাখা এজ়েদিন আল-কাশেম ব্রিগেডের তরফে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি।
ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র দানিয়েল হাগারি বলেন, “পশ্চিম জাবালিয়ায় হামাসের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন তাঁরা। হামাসের কমান্ডার ইব্রাহিম বিয়ারিকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া হামাসের প্রায় ৫০ জন যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে।”
যত দিন যাচ্ছে ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে। প্যালেস্তাইনের হামাস বাহিনীকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজরায়েল। তা করতে গত কয়েক দিন ধরেই ক্রমাগত আকাশপথে হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলি এয়ার ফোর্স। সেই সঙ্গেই চলছে স্থলপথে হামলা। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল-গাজা সীমান্তে হাজির হয়েছে আধুনিক যুদ্ধট্যাঙ্ক। এ ছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধ সরঞ্জামও জড়ো করা হয়েছে। ইজরায়েলের অভিযোগ, তাদের হামলা থেকে বাঁচতে হামাস সদস্যরা সাধারণ লোকেদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। এমনকি ভূগর্ভস্থ টানেলেও লুকিয়ে রয়েছে হামাস বাহিনী। তাদের নিকেশ করতেই স্থলপথে হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা।