
শেষ আপডেট: 6 November 2023 12:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ হাজার মৃত্যু দেখে ফেলেছে গাজা। বোমা-রকেট হামলায় ছিন্নভিন্ন আস্ত একটা জনপদ। রক্তাক্ত গাজায় শেষ মরণ কামড় বসাচ্ছে ইজরায়েলি সেনা। গাজা ভূখণ্ডকে নাকি দু’ভাগে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইজরায়েলি সরকার। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি অ্যান্টনি ব্লিনকিন।
ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে প্যালেস্তাইনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্লিনকিন। সূত্রের খবর, প্যালেস্তাইন সরকার জানিয়েছে গাজাকে দুই খণ্ডে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে ইজরায়েল। গোটা শহরটা যুদ্ধট্যাঙ্ক দিয়ে ঘিরে ফেলে তুমুল বোমাবর্ষণ, রকেট হামলা করে যাচ্ছে। হামাসকে নিকেশ করতে নতুন রণকৌশল নিয়েছে ইজরায়েল। শোনা গেছে, এই যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য মার্কিন স্টেট জেনারেলের কাছে আর্জিও জানিয়েছেন প্যালেস্তাইনের প্রেসিডেন্ট। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেছেন, গাজায় যাঁরা বেঁচে রয়েছেন এখনও তাঁদের যাওয়ার কোনও জায়গা নেই। শরণার্থী শিবিরগুলিতেও বোমা ফেলছে ইজরায়েলি সেনা। মিশর শরণার্থীদের আশ্রয় দেবে না। কাজেই পরিবার নিয়ে বাস্তহারাদের যাওয়ার আর কোনও জায়গা নেই।
ইজরায়েলি সেনার মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারিও গাজাকে ভেঙে ফেলার বিষয়ে তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সেনা মুখপাত্র বলেছেন, “হামাসকে পুরোপুরি মুছে দিতে এটাই আমাদের রণকৌশল। গাজা সিটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। গাজাকে দুই ভূখণ্ডে ভেঙে ফেলা হবে উত্তর ও দক্ষিণ গাজা।”
গোটা বিশ্বের তরফেই যুদ্ধ থামানোর আর্জি জানানো হলেও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, যতক্ষণ অবধি হামাস সমস্ত যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দিচ্ছে, ততক্ষণ অবধি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে না। যতক্ষণ না ইজরায়েল যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে, ততক্ষণ অবধি যুদ্ধ জারি থাকবে।
হামাস গোষ্ঠীও গাজার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলি থেকে পাল্টা আক্রমণে ইজরায়েলি সামরিক অভিযানকে প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। হামাসের নেতৃত্বে ইসলামিক জিহাদ বাহিনীর যোদ্ধারা সুড়ঙ্গ থেকে উঠে এসে ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে আবার সুড়ঙ্গে ঢুকে পড়ছে। ইজরায়েলের সামরিক কর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইদ্দো মিজরাহি জানিয়েছেন, চারদিকে মাইন পেতে রেখেছে হামাস যোদ্ধারা।
হামাসের সশস্ত্র শাখার মুখপাত্র আবু উবাইদা সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইজরায়েলের জন্য ‘অভিশাপ’ হয়ে উঠবে গাজা। ইজরায়েলি সেনাদের দেহ বস্তায় ভরে ফেরত পাঠাবে হামাস।” রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হলেও এখন যা পরিস্থিতি, তাতে এই যুদ্ধ আরও ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।