
শেষ আপডেট: 13 October 2023 11:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল-গাজা সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। গাজাকে চারদির থেকে অবরুদ্ধ করে মুর্হুমুর্হু রকেট হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েল। গাজা সীমান্তে জড়ো হয়েছে লাখ লাখ ইজরায়েলি সেনা। প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গাজার হাজার হাজার নিরীহ মানুষজনের প্রাণ যাচ্ছে। সেই সঙ্গেই জেনেভা কনভেনশনের চুক্তি ভেঙে সাদা ফসফরাস বোম গাজায় ফেলছে ইজরায়েল। যুদ্ধে রাসায়নিক মারণ অস্ত্রের ব্যবহার আন্তর্জাতিক নীতিতে নিষিদ্ধ। কিন্তু নিয়মের তোয়াক্কা না করে গাজায় থেকে হামাসের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দিতে এই বিষাক্ত রাসায়নিকের লাগাতার প্রয়োগ করে যাচ্ছে ইজরায়েল সরকার।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সাদা ফসফরাস বোমা প্রয়োগের কথা অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সাদা ফসফরাসের ব্যবহার গাজার বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যহানি করবে। ভবিষ্যত প্রজন্ম প্রতিবন্ধী হয়ে জন্মাতে পারে। রাসায়নিক বিষের প্রভাব বছরের পর বছর থাকবে।
কী এই সাদা ফসফরাস? কী প্রভাব ফেলতে পারে মানব শরীরে?
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, এই ধরনের সাদা ফসফরাস মূলত বিস্ফোরক তৈরিতে লাগে। তাই সরাসরি এর প্রয়োগে শুধু অঙ্গহানি নয়, নিমেষে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে পারে মানুষের পুরো শরীরটাই।
যে এলাকায় ফসফসার বোমা ফেলা হয় সেই এলাকার অক্সিজেন পুড়ে শেষ হয়ে যায়, ফলে শ্বাসকষ্টে বহু মানুষের মৃত্যু হতে পারে। সাদা ফসফরাস অত্যন্ত দাহ্য রাসায়নিক। অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে তা জ্বলে ওঠে। সাদা ফসফরাস ঘন সাদা ধোঁয়া তৈরি করে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় এ রাসায়নিক যখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা মারাত্মক প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
সাদা ফরফরাস কতটা মারাত্মক হতে পারে তার ব্যাখ্যা দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাসায়নিক মানুষের চামড়ার সঙ্গে লেগে যায়। জলের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে ওঠে। পুড়তে থাকে চামড়া। এমন জ্বালা-পোড়া নিয়ে ছেলে-বুড়ো-মেয়ের ভিড় ক্রমশ বেড়েই চলেছে গাজার হাসপাতালে।
রাসায়নিক অস্ত্রের এই ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখেই এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ হয় জেনেভা চুক্তিতে। জমি দখলের লড়াইয়ে ইউক্রেনের বেশ কিছু এলাকায় কিয়েভ-বাহিনী নিষিদ্ধ ফসফরাস বোমা ব্যবহার করছে বলে গত অগস্টে অভিযোগ জানিয়েছিল রাশিয়া। এবার ইজরায়েলও নিয়ম ভেঙে একই রকম সাদা ফসফরাসের প্রয়োগ করে চলেছে।