
শেষ আপডেট: 13 October 2023 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহত্তর কলকাতার আয়তন ১৪৮০ বর্গ কিলোমিটার। এর মধ্যে কলকাতা পুরসভার অধীনে রয়েছে মাত্র ২০৫ বর্গ কিলোমিটার। মিশর ও ভূমধ্যসাগর লাগোয়া পশ্চিম এশিয়ার গাজা শহর বৃহত্তর কলকাতার তিন ভাগের এক ভাগের থেকেও ছোট। দৈর্ঘ্যে ৪১ কিলোমিটার। চওড়ায় ১০ কিলোমিটার। শুধু এই টুকু জায়গায় গত ৬ দিনে ৬ হাজার বোমা ফেলেছে ইজরায়েল। যে বোমার ওজন চার হাজার টনের চেয়েও বেশি। এর পর আর কিছু অবশিষ্ট থাকতে পারে!
হামাসের বদলা নিতে ইজরায়েল যে বিমান হামলা শুরু করেছে তাতে গাজায় এ পর্যন্ত ১৪০০ মানুষ মারা গেছে বলে সরকারি হিসাব। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা আরও অনেক অনেক বেশি। গাজার ওই টুকু জায়গায় ২৩ লক্ষ মানুষের বাস। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হল পশ্চিম এশিয়ার এই ছোট শহর। ইজরায়েল জানিয়েছে, বিমান হামলা হয়ে গেছে। এবার ৩ লক্ষ ৬০ হাজার সেনা সীমান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাজায় ঢুকে এবার হামাসকে খুঁজে খুঁজে মারবে।
সেই অপারেশনের সমান্তরাল বলি যে সাধারণ নিরীহ মানুষ হবে তা নিয়ে সংশয় নেই রাষ্ট্রপুঞ্জের। তাই ওখানেই থামতে বলেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। নইলে চরম পরিণতি হবে বলে ইজরায়েলকে হুঁশিয়ারও করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, গাজায় অন্তত ৫০ হাজার গর্ভবতী মহিলা রয়েছে। ইজরায়েল জল, খাবারের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় এমনিতেই তাঁরা মৃত্যুমুখে দাঁড়িয়ে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলির দাবি, গাজায় হাসপাতালগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো এক একটা আস্ত মর্গে পরিণত হয়েছে।
গাজায় সাদা ফসফরাস বোমা ব্যবহার করেছে ইজরায়েল?
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে মানবাধিকার সংস্থা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় বিতর্কিত সাদা ফসফরাস বোমা ব্যবহার করার অভিযোগ তুলেছে।
এই রাসায়নিক অতিশয় দাহ্য। সামরিক বাহিনী মূলত তাদের সীমান্ত বোঝানোর জন্য এই রাসায়নি বোমা ব্যবহার করে। কিন্তু তা মানুষকে ভয়ঙ্কর ভাবে পুড়িয়ে মারতে পারে। আর সেটি বোমার মতো ব্যবহার করলে নিস্তার নেই। গাজা অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে ফসফরাস বোমা ব্যবহার করলে বিপর্যয় নেমে আসার কথা।
ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স তথা আইডিএফ সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, গাজায় সাদা ফসফরাসযুক্ত বোমা ব্যবহার হয়েছে বলে তারা জানেন না। তবে লেবাননের ব্যাপারে তারা কিছু জানাতে চায়নি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, গাজা এবং লেবাননে বোমার ফেলার ভিডিও দেখে তা বিশ্লেষণ করেছে তারা। সাদা ফসফরাসের আর্টিলারি শেল ফাটাতে দেখা গেছে। এএফপি-এর তোলা ছবিতে ফসফরাসের উপস্থিতি বোঝা যাচ্ছে। গাজায় বিস্ফোরণের সময়ে সাদা রেখা তৈরি হতেও দেখা গেছে।
সাদা ফরফরাস থেকে কেন ঘন সাদা ধোঁয়া তৈরি হয়?
আসলে তা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে বিক্রিয়া ঘটে এবং ঘন সাদা ধোঁয়া তৈরি হয়। হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, গাজা বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। সেখানে সাদা ফসফরাসের ব্যবহার নিরীহ নাগরিকদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন হচ্ছে। এই জন্যই নিষেধ করা হয়েছে।”
আন্তর্জাতিক আইনে অবশ্য সাদা ফসফরাসের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। কারণ, এর বৈধ ব্যবহার করা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকায় এর ব্যবহার কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
ইজরায়েলের সশস্ত্র সেনা ২০০৮-২০০৯ সালে গাজায় হামলার সময়ে ধোঁয়ার স্ক্রিন হিসেবে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছিল। সেই সময়ে বেশকিছু মানবাধিকার সংস্থা যুদ্ধ-অপরাধের অভিযোগ তুলেছিল ইজরায়েলের বিরুদ্ধে।