
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 October 2024 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেবাননে আবার নতুন করে হামলা করেছে ইজরায়েল। এবার তাঁদের লক্ষ্য হিজবুল্লার গোয়েন্দা সংস্থার মূল ঘাঁটি। সূত্রের খবর, নাসরাল্লার মৃত্যুর পর যার হিজবুল্লার প্রধান হওয়ার কথা সেই হাশেম সাফেদ্দিনকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে। এই হামলার পর তিনি জীবিত রয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয় এখনও।
আন্তর্জাতিক একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে এই হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। হিজবুল্লার গোয়েন্দা ঘাঁটির আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কারে তখন বৈঠক করছিলেন হাশেম। ওই বাঙ্কারেই হামলা চালানো হয়। অনুমান করা হচ্ছে, এই হামলায় হাশেম ছাড়াও হিজবুল্লার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হতে পারে। তবে আইডিএফ হোক বা হিজবুল্লা, কোনও পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি এই হামলার নিরিখে।
নাসারাল্লার পিঠোপিঠি সময়েই হিজবুল্লা দলে সামিল হয়েছিলেন সাফেদ্দিন। ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করেছিল। জুন মাসে এক হিজবুল্লা কমান্ডারের মৃত্যুর পর সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সাফেদ্দিন। বেশিরভাগ সময়ই আমেরিকার বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন। শুধু তাই নয়, হামাস-ইজরায়েল যুদ্ধেও প্যালেস্টাইনের পাশে দাঁড়িয়ে হুমকি দেন তিনি। আগে তিনি গোষ্ঠীর কার্যনির্বাহী কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন। পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক ব্যাপারেও মতামতও রাখতেন।
হিজবুল্লাকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে প্রথমে লাগাতার এয়ারস্ট্রাইক করার পর লেবাননে ঢুকে গিয়ে হামলা শুরু করে ইজরায়েল। এরই মধ্যে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইরান এবং ইয়েমেন! লেবাননের মাটিতে দাঁড়িয়ে আইডিএফ-এর বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে হিজবুল্লাও। এই পরিস্থিতির মধ্যে নাসরাল্লার উত্তরসূরিকেও যদি হত্যা করতে সক্ষম হয় ইজরায়েল তাহলে আরব দুনিয়া যে আরও উত্তাল হয়ে উঠবে তার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
বিগত প্রায় দু'সপ্তাহ ধরে লেবাননে টানা এয়ারস্ট্রাইক চালিয়েছে ইজরায়েল। দাবি করেছে, হিজবুল্লার প্রায় সব শীর্ষ নেতাকে তাঁরা খতম করেছে। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছেন নাসরাল্লা। তাঁর মেয়েকেও হত্যা করা হয়েছে। একাধিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিগত ২০ বছরে নাসরাল্লাকে কখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। এমন একজনকে হত্যা করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না। তবে সেই কাজ করে দেখিয়েছে আইডিএফ।
ইতিমধ্যে জানা গেছে, হিজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লার গতিবিধির খুঁটিনাটি ইজরায়েলের হাতে তুলে দেয় ইরানের এক গুপ্তচর। সেই সূত্র ধরেই ইজরায়েল বিমান হামলা চালায় মাটির ৬০ ফুট গভীরে! সেই বাঙ্কারেই হিজবুল্লা প্রধান বৈঠকে বসেছিলেন।