
শেষ আপডেট: 26 October 2023 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলে হামলার আগে প্যালেস্তাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ইরান, এমনটাই দাবি করা হয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে। সেখানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অন্তত ৫০০ হামাসকে কমব্যাট ট্রেনিং দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড গ্রুপ। তৈরি করেছে ইসলামিক জিহাদ গোষ্ঠী। এই বাহিনীই অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলের উপর।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে দাবি, হামাস বাহিনীকে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিয়েছিল ইরান। স্পেশাল কমব্যাট ট্রেনিং দেওয়া হয়েছিল তাদের। স্থলপথে, জলপথে ও আকাশপথে কীভাবে হামলা চালাতে হয়, কীভাবে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের প্রয়োগ করতে হয়, তার সবটাই নাকি হাতে রে শেখানো হয়েছিল হামাস বাহিনীকে। জিহাদের ভাবনা গেঁথে দেওয়া হয়েছিল তাদের মনে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল দাবি করেছে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হামাসদের ট্রেনিং দিচ্ছে। যুদ্ধাস্ত্র প্রয়োগের কৌশল, পণবন্দি করার কায়দা, আক্রমণ করার পদ্ধতি সবই শেখানো হচ্ছে তাদের। সেই অগস্ট মাস থেকে গাজা সীমান্তেই প্রশিক্ষণ চলছিল হামাসদের। একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে ইজরায়েলের ‘দি গ্রেট স্মার্ট ফেন্স’-এর সামরিক ঘাঁটির আদলে তৈরি পরিকাঠামোর ভেতরে ঢুকে হামলা চালানোর পদ্ধতি অভ্যাস করছে হামাস। গাজা-ইজরায়েল সীমান্তবর্তী অ্যারেজ ক্রসিং থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে ছিল এই প্রশিক্ষণ শিবির।
তথ্যসূত্র বলছে, হামলার জন্য হামাস যোদ্ধাদের ছয়টি শিবিরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে দুটি শিবির ছিল অ্যারেজ ক্রসিংয়ে, যা গাজা-ইসরায়েলে সীমান্ত থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি সীমান্ত থেকে মাত্র ৭২০ মিটার দূরে। অন্য তিনটি সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে দক্ষিণ গাজায়। দক্ষিণ গাজায় একটি শিবিরে সমুদ্রপথে হামলারও মহড়া দিয়েছিল হামাসের নৌযোদ্ধারা। সৈকত শহরগুলিতে অতর্কিতে হামলা চালানোর জন্যই সেই প্রশিক্ষণ নেওয়া হয়েছিল। এমনকী প্যারাগ্লাইডিংয়ের ট্রেনিংও নিয়েছিল তারা।
মার্কিন গোয়েন্দারা আগেই দাবি করেছিলেন, ইরান সমর্থিত ইরানের উগ্রপন্থী সংগঠন হেজবুল্লা গোষ্ঠীও যোগ দিয়েছে হামাসের সঙ্গে। হেজবুল্লা প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ ঘোষণা করেছেন, হামাসরা একা নয়। ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে তারাও পাশে আছে স্বাধীনতাকামী হামাসের। হামাসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার কথা জানিয়েছে তারা। ১৯৮০ সাল থেকে অর্থাৎ হামাস গোষ্ঠী তৈরিরও আগে লেবাননের গৃহযুদ্ধের মধ্যেই হেজবুল্লা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছিল। ১৯৯২ সাল থেকে এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন ধর্মগুরু এবং রাজনৈতিক নেতা হাসান নাসরাল্লাহ। এই হেজবুল্লা বরাবরই প্যালেস্তাইনকে সমর্থন করে। এর আগেও ইজরায়েল-গাজা যুদ্ধে প্যালেস্তাইনের পক্ষে সরব হয়েছিল তারা।