১২ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর অবশেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন যুদ্ধসমাপ্তি। যদিও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি।

শেষ আপডেট: 24 June 2025 23:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১২ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর অবশেষে ইরানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন যুদ্ধসমাপ্তি। যদিও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কথা বললেও তেহরানে মঙ্গলবার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের শব্দ নিশ্চিত করেছেন।
ইজরায়েলি সেনাবাহিনী পরে জানিয়েছে, তারা তেহরান সংলগ্ন একটি ইরানি রাডার ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে এই দাবির কিছুক্ষণ পরেই ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দফতর জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার পরে আর কোনও নতুন হামলা চালানো হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার বলেন, ‘আর কোনও হামলা হলে সেটি যুদ্ধবিরতির সরাসরি লঙ্ঘন হবে।’ তবে তিনি ইরান ও ইজরায়েল — উভয় পক্ষকেই যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার জন্য দায়ী করেন।
রাতের অন্ধকারে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যা তাদের ওপর আমেরিকার আগের হামলার জবাব ছিল বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে ইজরায়েলের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির পরে আবার মিসাইল ছুড়েছে। কিন্তু ইরানের সরকারি সংস্থা IRIB একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে খারিজ করেছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পরই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ফোনে কথা বলেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর তরফে ট্রাম্পকে জানানো হয়, ‘ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে, তাই হামলা বাতিল করা সম্ভব ছিল না। তবে প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখা হয়েছে, একটি টার্গেটেই আঘাত করা হয়েছে।’
ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস ঘোষণা করে যে, যুদ্ধবিরতির কয়েক মিনিট আগে তারা ইজরায়েলের একাধিক সামরিক কেন্দ্র লক্ষ্য করে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমেছে, এবং শেয়ার বাজার কিছুটা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। Brent crude-এর দাম এক ধাক্কায় ৫.৬% কমে যায়, যা ১৩ জুন ইজরায়েলের প্রথম হামলার আগের পর্যায়েরও নিচে। পরে আবার ইজরায়েল দাবি করে, ইরান নতুন করে হামলা করেছে, সেই দাবির প্রেক্ষিতে তেলের দাম কিছুটা বাড়ে।
কীভাবে শেষ হল ১২ দিনের সংঘর্ষ?
ইজরায়েল প্রথমে আচমকা হামলা চালায় ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে। তার জবাবে ইরানও মিসাইল হানে মার্কিন ঘাঁটিতে। পাল্টা হামলা চলে। তারপর ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ঘোষিত হয় যুদ্ধবিরতি।
তবে কূটনৈতিক মহলের মন্তব্য, এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।