মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ফের উত্তেজনা বৃদ্ধি। দুবাই ও কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন ও মিসাইল হামলার অভিযোগ ইরানের বিরুদ্ধে।

দুবাই ও কুয়েত এয়ারপোর্টের কাছে বিস্ফোরণ
শেষ আপডেট: 15 March 2026 14:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সংঘাতের ১৬তম দিনে ফের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (United Arab Emirates বা UAE)। রবিবার দুবাইয়ের (Dubai) মেরিনা (Marina) ও আল সুফুহ (Al Sufouh) এলাকায় জোর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময় ইরানের (Iran) ড্রোন হামলায় ফুজাইরাহ তেল টার্মিনাল (Fujairah Oil Terminal)-এর কাজও বন্ধ হয়ে যায়।
ফুজাইরাহ অঞ্চলে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় রবিবার সকালে। আগুন নেভাতে দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করেন দমকলকর্মীরা। এই হামলায় এক জর্ডনের নাগরিক (Jordanian National) আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
দুবাই মিডিয়া অফিস (Dubai Media Office) জানিয়েছে, শহরের আকাশে প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনকে প্রতিহত করা হয়েছে। তার ফলেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এদিন। এর আগেও শুক্রবার এবং শনিবার দুবাইয়ের ডাউনটাউন (Downtown Dubai) এলাকায় একই ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল।
এদিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও (Kuwait International Airport) কয়েকটি ড্রোন আঘাত হানে। যদিও এই ঘটনায় কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর (United States) হামলার পর। শনিবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে (Kharg Island) মার্কিন হামলার ঘটনা সামনে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেন, ওই হামলায় দ্বীপের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও জ্বালানি সংক্রান্ত স্থাপনাগুলি অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই সংঘাতে ইরান ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দিকে ১৮০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১৬০০ ড্রোন, ২৯৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic Missile) এবং ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র (Cruise Missile)। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৪১ জন। শুধু শনিবারই ইউএইর দিকে ন’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৩টি ড্রোন ছোঁড়া হয়।
এদিকে বাহরিনের (Bahrain) রাজধানী মানামা (Manama)-তেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। দেশটির দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ১২৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক জ্বালানি কেন্দ্রও হামলার নিশানায় পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের রাস তানুরা রিফাইনারি (Ras Tanura Refinery), কাতারের রাস লাফান গ্যাস প্রসেসিং কেন্দ্র (Ras Laffan Gas Processing Base) এবং ইউএইর রুয়াইস রিফাইনারি (Ruwais Refinery)।
এই পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) নিরাপদ রাখতে বিশ্বকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে সুইজারল্যান্ড (Switzerland) মার্কিন বাহিনীকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে।