কুয়েত বিমানবন্দরের বাইরে ভারতীয়দের বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 1 December 2024 22:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নেই পানীয় জল, মেলেনি কোনওরকম সাহায্য! এভাবেই টানা ১৩ ঘণ্টা কুয়েত বিমানবন্দরে রীতিমতো ‘বন্দি’ হয়ে রইলেন ভারতীয়রা। জানা গেছে, রবিবার মুম্বই থেকে ম্যানচেস্টারে আসছিল একটি বিমান। কিন্তু আচমকাই ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ, জরুরি অবতরণের পর বিমান পরীক্ষার সাফাই দিয়ে বিমানবন্দরে ভারতীয় যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। যার জেরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা যায় যাত্রীদের। ইতিমধ্যে বিমান কর্মীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাদানুবাদের ভিডিও ভাইরাল। সেখানেই দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকলেও তাঁদের কোনওরকম সাহায্য করা হচ্ছে না। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত বিমানবন্দরে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কুয়েতের ভারতীয় দূতাবাস এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছে। সেখানে গাল্ফ এয়ারের গাফিলতির অভিযোগ তুলে অবিলম্বে জবাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে খবর। যদিও এ বিষয়ে সংস্থার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যাত্রীদের আরও অভিযোগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা যে সব যাত্রী ছিলেন তাঁদের সমস্তরকম সাহায্য করা হলেও ভারতীয়দের কোনওরকম সাহায্যই করা হয়নি। উল্টে লাউঞ্জে প্রবেশের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও তা শোনা হয়নি।
পুরো ঘটনার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে আরজু সিং নামে এক মহিলা যাত্রীর অভিযোগ, বিমান সংস্থার তরফে জানানো হয়, 'লাউঞ্জে বসার সুযোগ মিলবে তাঁদের যাদের কাছে ভারতীয় এবং পাকিস্তানির পাসপোর্ট নেই। বাকিদের স্থানীয় হোটেলে অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিন আচমকাই ইঞ্জিনে আগুন লাগার বিষয়টি নজরে আসে। কালো ধোঁয়ায় ভরে যায় চারদিক। এরপর কুয়েত বিমানবন্দরে অবতরণ করা হলে একাধিকবার বিমান সংস্থাকে বসার জায়গা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। সেটাও শোনা হয়নি। এরপর সবাইকে মেঝেতে বসতে হয়।’
ওই যাত্রী আরও জানান, এরপর টানা দু’ঘণ্টা পিছনে দৌড়াদৌড়ির পর শেষমেশ লাউঞ্জে ঢোকার অনুমতি মেলে। আমরা খাবার ও কম্বল চাইলেও চার ঘণ্টারও বেশি সময় আমাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।’ জানা গেছে, এদিন ঘটনার খবর পেয়েই বিমানবন্দরে পৌঁছে যান কুয়েতে ভারতীয় দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। তাঁদের উদ্যোগেই পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে আসে বলে খবর।
এদিন ফ্লাইটটি মুম্বই থেকে ম্যানচেস্টারে যাচ্ছিল। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ওড়ার পর আচমকাই ঘোষণা করা হয় ইঞ্জিনে আগুন লাগার কারণে বিমানটির জরুরি অবতরণ হবে। সবাইকে প্রস্তুত হতেও বলা হয়। তারপর যাত্রীরা নামতেই তাঁদের চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় বলে খবর।