
সেলা সুড়ঙ্গপথ।
শেষ আপডেট: 25 March 2024 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে নিজেদের দাবি জানাল চিন। যার যথাযোগ্য জবাব ফিরিয়ে দিল ভারত।
সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের প্রায় চৌদ্দ হাজার ফুট উচ্চতায় সেলা সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করেছে ভারত। পশ্চিম অরুণাচলে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটক মাত্রেই বমডিলা থেকে তাওয়াং যাওয়ার পথে সেলা গিরিপথের অসামান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হ’ন। পাশাপাশি, ভারতীয় সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছেও এই গিরিবর্ত্মের গুরুত্ব অসীম। চিন ও ভুটানের মহাগুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পয়েন্টের এই রাস্তা এমনিতে বেশ দুর্গম। ফলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মূল সেলা গিরিপথের বা সেলা পাসের এক হাজার ফুট নিচে, প্রায় বারো কিলোমিটার লম্বা দুই লেনের এই সুড়ঙ্গ নির্মাণ করেছে ভারত। কাজে লাগানো হয়েছে ‘নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড’। দেখভালের দায়িত্বে আছে ‘বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন’।
এদিকে এতেই নড়েচড়ে বসেছেন বেজিং-এ চিনা বিদেশমন্ত্রক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের কর্তারা। চিন বরাবর অরুণাচলকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে এসেছে। যাকে কোনও অবস্থাতেই আমল দিতে রাজি নয় ভারত। ভারতীয় মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশ এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু চিনের দাবি, ওই অঞ্চলটি তাদের ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বা সাউথ টিবেট প্রদেশ। ফলে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘সীমান্ত-প্রশ্নে জটিলতা তৈরি হয়, এমন কিছু ভারত যাতে না করে, সেটাই আমরা চাই। চিনা সেনাবাহিনী কিন্তু ওই অঞ্চলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি চালায়। যে কোনও জাতীয় নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার প্রশ্নে তারা দেশের সীমানা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে অবশ্য উত্তর দিতে দেরি করা হয়নি। চিনের দাবিকে ‘আজগুবি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই ছিল, ভবিষ্যতেও তাই থাকবে। সেখানে ভারত কী করবে, সেটা একান্তই ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চিনের এতে নাক গলানোর কিছু থাকতেই পারে না।
ইতিমধ্যেই বিষয়টিতে আন্তর্জাতিক রাজনীতির রঙ লেগেছে। যাতে ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছে আমেরিকা। একতরফাভাবে চিনকে কোনও আগ্রাসন দেখাতে নিষেধ করা হয়েছে ওয়াশিংটনের তরফে। বেজিং অবশ্য তাতেও দমেনি। আমেরিকাকেও ‘তৃতীয় দেশের ব্যাপারে নাক গলাতে’ বারণ করেছে তারা। তবে ইতিমধ্যেই তাওয়াং-সীমান্ত সহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে নয়াদিল্লি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সীমান্তের ওপারে তিব্বতের তীব্র রুক্ষ ও পাহাড়ি মালভূমিতে দীর্ঘদিন ধরেই চিন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পরিবহণ ব্যবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে। বানানো হয়েছে এক্সপ্রেসওয়ে ও অত্যাধুনিক ‘হাই স্পিড রেলপথ’। এতে চিনের সেনাবাহিনীর গতিবিধিও মসৃণ হয়েছে। তুলনায় উত্তর-পূর্ব ভারতে পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে ধীরগতিতে। ফলে চিনের কাছে এতদিন ব্যাপারটা ছিল নিশ্চিন্তির। কিন্তু সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব ভারত জুড়ে একের পর এক সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় পরিকাঠামোর ঢালাও উন্নতি করেছে ভারত। বানানো হয়েছে একাধিক সুদীর্ঘ সেতু ও অত্যাধুনিক জাতীয় সড়ক। সুড়ঙ্গপথে তাওয়াং-সীমান্তের সঙ্গে যোগ এরই অংশ। এতে করে সেনার গতিবিধি দ্রুত হবে। যেতে পারবে সাঁজোয়া গাড়ি। চাইলে যে কোনও সময় বাহিনীকে অত্যন্ত অল্প সময়ের নোটিসে মোতায়েন করা যাবে। এতেই বিপদ দেখছে চিন। শুরু করেছে ফোঁসফোঁস। তবে তাতে বিপদের কিছু দেখছে না নয়াদিল্লি।