
কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো
শেষ আপডেট: 24 October 2024 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক লড়াইয়ের মাঝে ঘরের মাঠে ঘূর্ণি পিচে বেসামাল অবস্থা কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর। নিজের দল লিবারেল পার্টির তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। দলের শীর্ষস্থানীয় কুড়িজন সাংসদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে বলে এসেছেন, ‘নিজে থেকে সরে যান। নয়তো পার্লামেন্টে দলের এমপি-দের বিদ্রোহের মুখে পড়তে হতে পারে।’
তাঁরা সাতদিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বলে জনপ্রিয় মার্কিন টেলিভিশন চ্যালেন সিবিএস নিউজ জানিয়েছে। কানাডার রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ট্রুডো তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে খারাপ সময় কাটাচ্ছেন। বিরোধী দলের পর নিজের পার্টির অনাস্থার মুখে পড়েছেন তিনি।
কানাডার এই অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ভারতের জন্য যথেষ্ট স্বস্তির হয়ে উঠেছে। কারণ, বিরোধী দলের পাশাপাশি ট্রুডোর পার্টিও হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার ঘটনায় তাঁর সরকারের পদক্ষেপে বিরক্ত। আগামী বছর কানাডার জাতীয় সংসদের ভোট। লিবারেল পার্টি মনে করছে নয় বছরের বেশি ক্ষমতাসীন ট্রুডোর প্রতি মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমেছে। এই অবস্থায় তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে রেখে নির্বাচনী লড়াই কঠিন হবে।
সে দেশের বিরোধী দলগুলি নিজ্জর হত্যা ইস্যুতে ভারতের বক্তব্যকে হাতিয়ার করে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করা শুরু করেছে। ভারত সরকারিভাবে জানিয়েছে, অন্তত কুড়িজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গির তালিকা কানাডা সরকারকে দিয়ে বারে বারে দাবি করা হয়েছে তাদের নয়া দিল্লির হাতে তুলে দিতে। ট্রুডোর সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। সেই তালিকায় হরদীপ সিং নিজ্জরের নামও আছে যে ভারতে একাধিক অপরাধ করে কানাডায় গিয়ে সে দেশের নাগরিকত্ব নিয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বুধবার ট্রুডোর সঙ্গে তাঁর দলের কুড়িজন প্রথমসারির নেতা ও সাংসদ দেখা করেন। সেখানে নিজ্জর প্রশ্নে ট্রুডোর পদক্ষেপ নিয়ে সরব হন নেতারা। ইতিমধ্যে বিরোধীরা প্রচার শুরু করেছে ট্রুডো নিজের গদি বাঁচাতে খলিস্তানি উগ্রবাদীদের মদত দিচ্ছেন।
ঘটনাচক্রে নিজ্জর ইস্যুতে এই কথা বলেই কানাডা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে ভারতের রাষ্ট্রদূত সঞ্জয় ভার্মাকে। সে দেশের রাজধানী অটোয়া থেকে স্বদেশে রওনা হওয়ার আগে সঞ্জয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারত-কানাডা সম্পর্কের অবনতির জন্য পুরোপুরি ট্র্যুডো দায়ী বলে মন্তব্য করেন। সঞ্জয় বলেন, ট্রুডো হাতে প্রমাণ ছাড়াই স্রেফ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, আমরা তথ্য প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছি, কানাডার গোয়েন্দা সংস্থাগুলি কীভাবে খলিস্তানি জঙ্গিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কানাডার শিখ নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যায় কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি সরাসরি অটোয়ায় ভারতীয় দূতাবাসের যোগ থাকার অভিযোগ তোলার পর সঞ্জয় ভার্মা ও তাঁর ছয় সহযোগীকে বহিষ্কার করে ট্রুডোর সরকার। পাল্টা ভারতও ট্র্যুডোর দেশের ছয় কূটনীতিককে দেশ ছাড়তে বলেছে।
কানাডার জাতীয় সংসদের তিনশো আসনে আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ ভোট হওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে খলিস্তানিদের নিয়ে ট্রুডোর দরদের পিছনে আছে ভোটের অঙ্ক। ১৯টি আসনে হার-জিৎ ঠিক হয় শিখদের ভোটে। সেই কারণে তিনি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে খলিস্তানিদের পক্ষ নিয়েছেন বলে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ।