দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাদের তাঁরা দোষী সাব্যস্ত করে জেলে পাঠিয়েছিলেন, সেই অপরাধীদের ফিরে এসেই তালিবান মুক্তি দেওয়ায় প্রাণ সংশয়ে ভুগছেন আফগানিস্তানের প্রায় ২৫০ মহিলা বিচারপতি ( afghan women judges)। তালিবানের (taliban) দাক্ষিণ্যে জেল থেকে বেরিয়ে সেই অপরাধীরা (criminals) এখন তাঁদের মারবে বলে খুঁজছে! কিছু মহিলা বিচারপতি ডামাডোলের মধ্যেই দেশ ছেড়েছেন, যাঁরা রয়ে গিয়েছেন, এখনও বেরনোর চেষ্টা করছেন, প্রতি মুহূর্তে তাঁদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে মৃত্যুভয় (fear of death)।
গত মাসে তালিবান আফগানিস্তান দখল প্রায় সম্পূর্ণ করে মুখে বলেছে, মহিলাদের অধিকারকে মর্যাদা দেবে, তবে শরিয়তের চৌহদ্দির মধ্যেই। কিন্তু তাতে ভরসা করা যাচ্ছে না। ২০বছর আগে ক্ষমতায় থাকাকালে তারা মহিলাদের কাজ করা, পুরুষ ছাড়়া বাইরে বেরনো নিষিদ্ধ করেছিল। এবারও পরিস্থিতি সেদিকেই গড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন----শ্যামের সোনা রামের কাছে! লকার খুলতেই বেরিয়ে এল ভরি ভরি গয়না, বিস্কুট, সোনার বাট
বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত মহিলারা টার্গেট হয়ে উঠেছেন ইতিমধ্যেই। জানুয়ারিতেই গুলিতে খুন হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দুই মহিলা বিচারপতি। এখন তালিবান দেশজুড়ে বন্দিদের জেল থেকে বের করে দেওয়ায় মহিলা বিচারপতিদের জীবন সত্য়িই বিপন্ন হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপের কোনও দেশে পালিয়ে যাওয়া এক শীর্ষ আফগান মহিলা বিচারপতি। বিদেশি সংবাদ সংস্থাকে সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, কাবুলে চার-পাঁচজন তালিবান জঙ্গি আমার বাড়ির লোকজনকে প্রশ্ন করেছে, ওই মহিলা বিচারপতি কোথায়? ওদের আমি কারাদণ্ড দিয়েছিলাম।
তাঁর মতো হাতে গোনা কয়েকজন আফগান মহিলা বিচারপতি সাম্প্রতিক কালে মানবাধিকার স্বেচ্ছাসেবক, আন্তর্জাতিক মহিলা বিচারপতি সংগঠনের লোকজনের উদ্যোগে দেশ ছাড়তে পেরেছেন। তিনি বিদেশে বসে ঘরের খবর রাখছেন। ওদের থেকে যা খবর পাচ্ছি, তা পুরো সন্ত্রাসের আবহাওয়ার আভাস দিচ্ছে। ওরা আমায় বলেছে, দ্রুত দেশ থেকে উদ্ধার না হলে জীবন বিপন্ন হয়ে উঠবে।
বিচারপতিদের পাশাপাশি হাজারখানেক মহিলা মানবাধিকার কর্মীও তালিবানের নিশানা হওয়ার আশঙ্কা করছেন, জানিয়েছেন আফগান মানবাধিকার কর্মী হোরিয়া মোসাদিক। কারামুক্ত বন্দিরা মহিলা বিচারপতি, আইনজীবী, পুলিশ অফিসারদের খুনের হুমকি দিয়ে বলছে, আমরা আসছি!
গত সপ্তাহে ব্রিটেন ৯ জন আফগান মহিলা বিচারপতিকে উদ্ধার করেছে, ‘খুবই বিপন্ন লোকজনের’ আরও অনেককে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ ন্যয়বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড। বলেছেন, এই বিচারপতিদের অনেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দায়বদ্ধ ছিলেন, তালিবানের উত্থানের পরিণতির ব্যাপারে ভয় পাওয়ার যুক্তি আছে।
যদিও মানবাধিকার ও আইনি রক্ষা আন্দোলনের কর্মীদের অনুযোগ, পশ্চিমি দেশগুলি কাবুল পতনের পর চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মহিলা বিচারপতি, মানবাধিকার কর্মীদের উদ্ধারে অগ্রাধিকার দেয়নি। সারাহ কে নামে জনৈক মানবাধিকার কর্মী বলেছেন, নিজেদের নাগরিক নয় বলে অনেককে বের করে নিয়ে আসায় একাধিক সরকারেরই বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না।