
শেষ আপডেট: 18 December 2023 17:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহাজনেরাও মাঝেমধ্যে ঠিকঠাক কথা বলেন না। জার্মান নাট্যকার বেট্রোল্ট ব্রেখট তাঁর একটি নাটকে জানিয়েছিলেন ‘মানুষ সবচেয়ে সস্তা কারণ সংখ্যায় সে বেশি’। বিখ্যাত নাট্যকার সম্ভবত এই কথাটি লেখার আগে ভেবে দেখেননি, যে সব মানুষই নেহাত সস্তা নয়। বিশেষত সেই মানুষটির নাম যদি হয় ওসামা বিন লাদেন অথবা দাউদ ইব্রাহিম। ‘দামি’ মানুষ শুধু দুটি নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সারা পৃথিবী জুড়ে তালিকাটি যথেষ্ট দীর্ঘ।
‘মাথার দাম’ বলে একটি শব্দবন্ধ চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে। সচরাচর প্রশাসনের কাছে বিপজ্জনক ব্যক্তিদের মাথার দাম ধার্য হয় বিপদের মাত্রাভেদে। যিনি যতটা বিপজ্জনক তাঁর মাথার দাম তত বেশি। যদিও এই কথাটিতে সামান্য ব্যাকরণগত ত্রুটি আছে। পুরস্কার মূল্যটি মাথা নিয়ে এলে পাওয়া যায় না, মাথার সঙ্গে সজীব দেহটি কোন কাননের ফুল হয়ে ফুটে আছে সেটি নির্ভুল ভাবে জানিয়ে দিলে তবেই ইনাম মেলার কথা। বিন লাদেনের মাথার দাম ছিল সব মিলিয়ে ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কত টাকা সে নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই কারণ বিন লাদেনের মাথাটিই আর নেই। আপাতত সংবাদে রয়েছেন দাউদ ইব্রাহিম। নিশ্চিত করে এখনও জানা যাচ্ছে না তিনি মৃত নাকি জীবিত। এসব ক্ষেত্রে সঠিক সংবাদ পাওয়ার উৎসমুখগুলিও খুব ধোঁয়াশায় ঢাকা। যদিও তাঁর দামটি এখনও স্পষ্ট বিভিন্ন সরকারি ঘোষণায়।
এনআইএ (NIA) ‘ডি’ কোম্পানির জন্য যে অর্থমূল্য ঘোষণা করেছে, তার শীর্ষে রয়েছেন দাউদ। এই মাফিয়া ডনের মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। একই সঙ্গে ১৫ লক্ষ টাকা করে ধার্য রয়েছে দাউদের ভাই আনিস ইব্রাহিম ওরফে হাজি আনিস, জাভেদ প্যাটেল ওরফে জাভেদ চিকনা, শাকিল শেখ ওরফে ছোটা শাকিল এবং ইব্রাহিম মুস্তাক আবদুল রজ্জাক মেমন ওরফে টাইগার মেমনের জন্য। এরা প্রত্যেকেই অপরাধ জগতের এক একটি ‘নক্ষত্র’।
পাকিস্তানের করাচির বাসিন্দা, ১৯৯৩ সালের মুম্বই সিরিয়াল বিস্ফোরণ কাণ্ডের মূল চক্রী মাফিয়া ডন দাউদের ‘মাথার দাম’ অবশ্য আমেরিকার নিরাপত্তা পরিষদ ২০০৩ সালে ধার্য করে ২৫ মিলিয়ন ডলার যা ভারতীয় মুদ্রায় ২০৭ কোটি টাকার বেশি। এইসব দাম ধার্য বিষয়টির মধ্যে অবশ্য কিঞ্চিৎ ‘ধূসর ক্ষেত্র’ রয়েছে। দাউদ কোথায় কীভাবে আছে, কাদের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে তার কাজকর্ম পরিচালনা করছে তার কিছুই আর গোপন নয়। ফলে দাউদের সন্ধান দেওয়াটা বা তাকে ভারতে প্রত্যার্পণ করার ব্যাপারটা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির আঙিনাভুক্ত বিষয়। ফলে এই মূল্য প্রাপ্তি বা পুরস্কার প্রদান দুই-ই আপাতত আলঙ্কারিক ঘোষণা হয়ে রয়েছে।
দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধের তালিকা দীর্ঘ। তারমধ্যে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের চোরা কারবার, ড্রাগ আমদানি থেকে শুরু করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে বিভিন্ন নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানো, বিখ্যাত ব্যক্তিদের খুনের হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, লক্সর ই তৈবা, জইশ ই মহম্মদ, আল কায়দা সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সহায়তা করে যাওয়া, জাল নোট ছড়িয়ে দেশের অর্থনীতিকে আঘাত করার চেষ্টা সবই রয়েছে।
ভারতে কেন্দ্রে ১৩ বছর কংগ্রেস ১৫ বছর বিজেপির সরকার দাউদকে দেশে ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে। আন্তর্জাতিক চাপের মুখেও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার নিশ্ছিদ্র ঘেরাটোপে নিজে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছে, তার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে পাকিস্তানের বিখ্যাত ক্রিকেটার মিঁয়াদাদের ছেলের। গত ৩০ বছর ধরে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের মৃত্যু সংবাদও তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ে উঠেছে ‘মোস্ট সার্চড নিউজ’।