
নম্রতা ও অজয় হিন্দুজা।
শেষ আপডেট: 18 June 2024 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আঙ্কল টমস কেবিন' পড়েছেন! ১৮৫২ সালের সেই বিপ্লব জাগানো উপন্যাসের পাতার অক্ষরগুলো আজও জেগে আছে আমাদের চারধারে। দাসপ্রথা আইনত উঠে গেলেও কর্পোরেট দুনিয়ায় ভিন্ন পোশাকে, ভিন্ন আচরণে তা আজও বেঁচে আছে। জীবনের খিদে মেটাতে যুগ যুগ ধরে আজও মানুষ কারও না কারও দাসবৃত্তি করে চলেছে। সেখানে পশুর মতোই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হয়। যেমনটা 'মডার্ন টাইমস' ছবিতে তুলে ধরেছিলেন চার্লি চ্যাপলিন। মানুষ যেখানে দুবেলা পেট ভরে খেতে পায় না, সেখানে বহুমূল্যের আদুরে-আহ্লাদি গৃহপালিত পোষ্যের খাতিরে কোনও খামতি ঘটে না।
যেমনটা ঘটেছে ধনকুবের হিন্দুজা পরিবারের ক্ষেত্রে। পরিচারকদের বেতনের থেকে পোষ্য কুকুরের জন্য হিন্দুজা পরিবার অনেক বেশি খরচ করে। ব্রিটেনের ধনীতম এই পরিবার একজন পরিচারকের বেতনে যত ব্যয় করে, তার থেকে অনেক বেশি খরচ করে তাদের পোষ্য কুকুরের জন্য। গৃহকর্মের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী পাচার ও তাঁদের শোষণের অভিযোগে চলা একটি মামলায় সরকারি কৌঁসুলি একটি সুইস আদালতে এই তথ্য তুলে ধরেন।
আইনজীবী ইয়েভস বার্তোস্সা বলেন, হিন্দুজারা একজন পরিচারকের থেকে একটি পোষ্য কুকুরের জন্য বেশি খরচখরচা করে। আদালতে তিনি দাবি করে বলেন, একজন মহিলা পরিচারিকাকে মাত্র ৬৫৬.৭০ টাকা (৭ সুইস ফ্রাঁ) বেতন দেওয়া হয়। সপ্তাহে সাতদিন দিনে ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয় ওই মহিলাকে।
আইনজীবী আরও দাবি, কর্মচারীদের চুক্তিতে কাজের ঘণ্টা এবং ছুটির দিন লেখা থাকে না। যদি প্রয়োজন পড়ে তাহলে তাঁদের ছুটি মেলে, তাও কাজ না থাকলে। পরিচারক-পরিচারিকাদের পাসপোর্ট পরিবারের জিম্মায় রেখে দেওয়া হয়। ফলে কাজ ছেড়ে তাদের চলে যাওয়ারও উপায় থাকে না। এমনকী তাঁদের বেতনের সুইস ফ্রাঁ ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে সেখানে হাতখরচ বা অন্য কোনও কারণে খরচ করার মতো অর্থ হাতে থাকে না।
মালিকের অনুমতি না নিয়ে পরিচারকদের বাড়ির বাইরে বেরনো নিষিদ্ধ। তাছাড়া অন্য কোনও রকমের স্বাধীনতাও তাঁদের দেওয়া হয় না বলে আইনজীবীর দাবি। এ কারণে আবেদনকারীর আইনজীবী অজয় হিন্দুজা এবং তাঁর স্ত্রী নম্রতার কারাবাসের শাস্তি চেয়েছেন। এছাড়া আদালতের ব্যয়-জরিমানা হিসাবে ১০ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ এবং ওই কর্মীকে ৩৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন আদালতে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে হিন্দুজা পরিবারের আইনজীবীরা বলেন, পরিচারকদের সঙ্গে সম্মানপূর্বক ব্যবহার করা হয়। বেতন প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, ওটা ওভাবে হিসাব করলে চলবে না। কারণ সব পরিচারকই বোর্ডিং এবং লজিংয়ের অর্থাৎ থাকা-খাওয়ার খরচসহ থাকেন। ফলে মোট খরচের পরিমাণটা অনেক বেশি।
১৮ ঘণ্টা কাজের প্রসঙ্গে হিন্দুজাদের উকিল বলেন, উনি যখন বাড়ির বাচ্চাদের সঙ্গে টিভি দেখেন, সেটাকে কি কাজ বলা যাবে! আমার মনে হয় তা নয়।