
সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ন্যাথান অ্যান্ডারসন
শেষ আপডেট: 16 January 2025 08:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আদানি গোষ্ঠীকে নিয়ে বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ করেছিল। এদিকে সেবি প্রধান এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধেও বড় অভিযোগ এনেছিল। সেই হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সংস্থা বন্ধ হতে চলেছে। না, এমনটা অন্য কেউ বলছেন না। এই বিষয়ে জানিয়েছেন খোদ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ন্যাথান অ্যান্ডারসন। তবে আচমকা কী কারণে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি?
হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল ভারতে। তাঁদের রিপোর্টের জেরেই আদানি গোষ্ঠীর সব শেয়ারেই ধস নেমেছিল। এদিকে সেবি প্রধানের বিরুদ্ধেও যে অভিযোগ তুলেছিল হিন্ডেনবার্গ তাতেও বিরাট বিতর্ক হয়। সেই সংস্থাই বন্ধ হতে চলেছে এখন। ন্যাথান জানিয়েছেন, এই সংস্থা তাঁর জীবনের একটা অধ্যায়, গোটা জীবন নয়। তাই অনেক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
এখন প্রশ্ন উঠছে, একাধিক বিস্ফোরক রিপোর্ট প্রকাশ করার জেরে কি তিনি কোনও হুমকি পাচ্ছেন? প্রাণ ভয়ে এই সংস্থা বন্ধ করে দিচ্ছেন? ন্যাথানের স্পষ্ট কথা, 'কিছু সাম্রাজ্যের ভিত নাড়ানোর প্রয়োজন মনে করেছিলাম, নাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে কোনও হুমকি বা ভয় পাওয়া অথবা অসুস্থতার ব্যাপার নেই। এই সিদ্ধান্ত পুরোটাই ব্যক্তিগত।' তিনি বলছেন, এই কাজ করতে গিয়ে জীবনের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবসময় কাজে মন দেওয়ার জন্য পরিবার থেকেও কার্যত আলাদা হয়ে গেছিলেন। তাই এখন কাছের মানুষদের কাছে ফিরতে চান।
হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ হল একটি মার্কিন শর্ট সেলার সংস্থা। সম্প্রতি তাদের রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছিল যে আদানি শিল্পগোষ্ঠী কীভাবে গত কয়েক বছর ধরে জালিয়াতি করে চলেছে। মরিশাস, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের মতো দেশে ভুয়ো কোম্পানি তৈরি করে সেখান থেকে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে, বেআইনি লেনদেন হয়েছে এবং কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। হিন্ডেনবার্গের ওই রিপোর্টের পর আদানির প্রায় সমস্ত শেয়ারে ধস নামে।
মোদী জমানায় ভারতে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া তথা (সেবির) স্বশাসিত ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল এই সংস্থা। একটি হুইসলব্লোয়ারের তথ্য উদ্ধৃত করে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ জানিয়েছিল, সেবির বর্তমান চেয়ারপার্সন মাধবী বুচ এবং তাঁর স্বামীর আদানির অফশোর কোম্পানি অংশীদারিত্ব রয়েছে। হিন্ডেনবার্গের দাবি ছিল, মাধবী বুচ ও তাঁর স্বামী মরিশাস ও বারমুডার এমন সব ভুয়ো বিদেশি সংস্থায় বিনিয়োগ করে রেখেছেন যাদের সঙ্গে গৌতম আদানির ভাই বিনোদ আদানির প্রত্যক্ষ যোগ ছিল।
গৌতম আদানি হোক কী মাধবী বুচ, দুজনেই অবশ্য নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।