
শেষ আপডেট: 11 January 2024 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করল শেখ হাসিনার নেতত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী বাদে বাকি ৩৬ মন্ত্রীর মধ্যে ১৪জন নতুন। নয়া মন্ত্রীদের মধ্যে বড় চমক ডাঃ সামন্ত লাল সেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মন্ত্রী পদে প্রথমবারের জন্য শপথ নেওয়ার পর তাঁকে দেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতে নতুন মন্ত্রীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই ডাঃ সেন অভিনন্দনের বন্যায় ভাসছেন। বস্তুত, মন্ত্রীদের তালিকায় তাঁর নামই ছিল সবচেয়ে বড় চমক। বাস্তবে সে দেশের অনেক নেতা-মন্ত্রীর থেকেও যিনি বেশি জনপ্রিয়।
শেখ হাসিনার নয়া মন্ত্রিসভায় চমক আছে মন্ত্রীদের মন্ত্রক বণ্টনেও। বিগত মন্ত্রিসভার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মামুদকে এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন দীপু মণি। তাঁকে এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাসান মামুদ আলি হয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী।
তবে প্রথমবার মন্ত্রিসভায় এসেই সামন্ত লাল সেন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দায়িত্ব পাওয়ায় আওয়ামী লিগ নেতাদেরও অনেকেই বিস্মিত। আসলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন না। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি দশজন নির্বাচিত মন্ত্রী পিছু পেশাদার কোটায় একজনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া যায়। রাজনীতির বাইরে সমাজের বিশিষ্টদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতেই এই বিধান রাথা হয় সংবিধানে।
ডাঃ সামন্ত লাল সেনকে সেই কোটায় মন্ত্রিসভায় নিয়েছেন শেখ হাসিনা এবং প্রথমবারেই তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী করে স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দিয়েছেন। যদিও রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মানেন নির্বাচনে প্রার্থী হলেও বিপুল মার্জিনে জয় নিশ্চিত ছিল তাঁর। অগ্নিদগ্ধ রোগীর চিকিৎসার জন্য ঘরে ঘরে পরিচিত তিনি।
আসলে ডাঃ সামন্ত লাল সেন শুধু মাত্র একজন চিকিৎসক নন, চিকিৎসা পেশায় তিনি নামী সংগঠক এবং পরিচালক। বুধবার পর্যন্ত তিনি ‘শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’-এর প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন, যে প্রতিষ্ঠানটি আদতে ছিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। সেটিকে একটি পৃথক ইনস্টিটিউট হিসাবে গড়ে তোলার পুরো কৃতিত্বই শেখ হাসিনা-সহ বাংলাদেশ সরকার ডাঃ সামন্ত লাল সেনকে দিয়ে থাকেন। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে প্রথম বার্ন ইউনিট চালুর সময়ও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন এই প্লাস্টিক সার্জেন।
গত শনিবার বেনাপোল এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ডাঃ সামন্তলাল সেন। বৃহস্পতিবার হলেন বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
শুধু তাই নয়, দেশের যে কোনও প্রান্তে বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেই ডাঃ সেনকে ত্রাতার ভূমিকায় হাজির হতে হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন ঢাকাগামী বেনাপোল এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ডের পরও অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসার জন্য মাঝরাতে ছুটতে হয় ৭৫ বছর বয়সি এই চিকিৎসককে। সেদিনও সারা রাত হাসপাতালে কাটান প্রবীণ এই চিকিৎসক।
হবিগঞ্জের আদি বাসিন্দা সামন্ত লাল সেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পর লন্ডন, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় অগ্নিদগ্ধদের চিকিৎসা নিয়ে প্রশিক্ষণ নেন এবং উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর শেখ হাসিনা তাঁকে বার্ণ ইনস্টিটিউটের মাথায় বসান।
ডাঃ সেন ছাড়াও পূর্ণমন্ত্রী হিসাবে সংখ্যালঘু মুখ আছেন তিনজন দু’জন। আগের মন্ত্রিসভার মতো এবারও খাদ্যমন্ত্রী হয়েছেন সাধনচন্দ্র মজুমদার। ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন নায়ায়ণ চন্দ্র চন্দ। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে।