
শেষ আপডেট: 10 October 2023 19:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষের মাত্রা ক্রমশই চড়ছে। এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হামাসের অতর্কিত রকেট হামলার পরেই প্রত্যাঘাত হিসাবে গাজার দখল নিয়েছে ইজরায়েল। সেখানকার বাসিন্দাদের খাবার, জল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এবার হামাসের সামরিক মুখপাত্র আবু উবাইদা হুমকি দিয়েছেন, কোনও সতর্কতা ছাড়াই গাজার সাধারণ নাগরিকদের উপর ইজরায়েল হামলা করলে তারাও পাল্টা হিসাবে এক এক করে সেদেশের বন্দিদের হত্যা করতে শুরু করবে।
হামাস আরও দাবি করেছে, ইজরায়েলের বিমান হামলায় তাদের চার নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে যারা গাজায় বন্দি ছিল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, চারদিনের অচলাবস্থা চলাকালীন ইজরায়েলের হামলায় ১৪৩টি শিশু ও ১০৫ জন নারী সহ সেখানকার মোট ৭০৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ। এছাড়া হামাসের হামলায় ইজরায়েলে অন্তত ৯০০ মানুষ নিহত ও ২,৬০০ জন আহত হয়েছেন।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার ব্যাপারে হামাসকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে। 'আমরা এই যুদ্ধ চাইনি। সবচেয়ে নৃশংস ও বর্বরভাবে আমাদের এই যুদ্ধে নামতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে ইজরায়েল এই যুদ্ধ শুরু না করলেও ইজরায়েল এই যুদ্ধ শেষ করবে, জানিয়েছেন নেতানিয়াহু।
হামাসকে আইসিসের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানিয়েছেন, 'হামাস বুঝতে পারবে যে আমাদের আক্রমণ করে তারা ঐতিহাসিক ভুল করেছে। এর এমন দাম চোকাতে হবে তাদের যে হামাস তো বটেই, ইজরায়েলের অন্যান্য শত্রুরা আগামী কয়েক দশক ধরে তা মনে রাখবে।'
ইজরায়েলের গাজা ভূখণ্ডে অবরোধ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে তোলপাড় পড়ে গেছে। ইজরায়েল স্পষ্ট করেই জানিয়েছে , গাজাকে তারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, 'এই পরিস্থিতে ইজরায়েলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ যে বৈধ, তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু সেই সঙ্গে ইজরায়েলকে আমি এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছি যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এমনেই সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে হবে।'
ইজরায়েল-হামাস সংঘর্ষে মৃত ১৬০০ জনের মধ্যে রয়েছে ১১ জন মার্কিন নাগরিকও। আমেরিকার তরফেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তারা একথাও জনিয়েছে, আরও বহু মার্কিন নাগরিক হামাসের হাতে বন্দি হয়ে রয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস একথাও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে যুদ্ধে জড়ানোর কোনও ইচ্ছা নেই। ইরান এবং অন্যান্য দেশগুলিকে এই যুদ্ধে না জড়ানোর ব্যাপারেও সতর্ক করেছে।
ইজরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মধ্যে যুদ্ধ নতুন নয়। সেই ২০০৭ সালে হামাস গোষ্ঠী গাজায় ক্ষমতা দখলের পর থেকেই একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। সম্প্রতি হামাসের সন্ত্রাসবাদীরা জানায়, এই ঝামেলা শেষ করতে দখলদারিতে অতি অবশ্যই দাঁড়ি টানতে হবে। তাদের দাবি, ইজরায়েল বারবার প্যালেস্টাইনের জমিতে, বিশেষ করে জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসার উপর হামলা চালিয়েছে। এরপরেই শনিবার হামাস একসঙ্গে ৩ হাজার রকেট ছোড়ে ইজরায়েলে। তার পাল্টা এবার আক্রমণ শুরু করেছে ইজরায়েলও।