
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 14 May 2024 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বিক্ষোভের মুখে খয়রাতি দিয়েও শান্ত করা গেল না পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পাকিস্তান-বিরোধী আন্দোলনকে। পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তুমুল সংঘর্ষে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের যৌথ সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি সরকারি ভরতুকির বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আইনি পরীক্ষা করে দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সরকারকে। তাতে যদি দাবিসনদের কোনও একটি বাদ পড়ে যায়, তাহলে তারা বিক্ষোভ-আন্দোলনের নতুন রূপরেখা তৈরি করবে বলে জানিয়েছে।
এদিকে, একদিকে দেশের চরম আর্থিক সংকট এবং বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে বিশাল পরিমাণ ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে চলার পাশাপাশি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন নিয়ে জেরবার ইসলামাবাদ। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নওয়াজ শরিফপন্থী পাকিস্তান মুসলিম লিগের প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজই ফের দলের নেতৃত্ব হাতে তুলে নেবেন। উল্লেখ্য, প্রায় চারবছর লন্ডনে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকার পর গত অক্টোবরে নওয়াজ দেশে ফেরেন।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আন্দোলন প্রশমন করতে সোমবারই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শরিফের নেতৃত্বে এক বৈঠকে ওই অঞ্চলের পুতুল সরকারকে বেশ কিছু ভরতুকি প্রদান করা হয়। কিন্তু তারপরেও পাক সামরিক বাহিনীকে দেখে তাদের উপর চড়াও হন প্রতিবাদীরা। সেই সংঘর্ষে গুলিতে ৩ জন মারা গিয়েছেন এবং ৬ জন জখম হয়েছেন।
পাকিস্তান সরকার বিক্ষোভ শান্ত করতে ৪০ কেজি আটার দাম ৩১০০ টাকা থেকে ২০০০ হাজার টাকা করে দেয়। বিদ্যুতের মাশুলও বিভিন্ন ধাপে ইউনিটপ্রতি ৩ থেকে ৬ টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সরকার এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এরপরেই বিক্ষোভ থামাতে সেখানে যাওয়া পাক আধা সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের দিকে ফিরতে শুরু করে।
মুজফফরাবাদের কাছে ৫টি ট্রাক সহ ১৯ গাড়ির কনভয় এসে পৌঁছলে উত্তেজিত জনতা তাদের লক্ষ্য করে ঢিল-পাথর ছুড়তে শুরু করে। জবাবে বাহিনী প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও পরে গুলি চালায়। রাস্তার উপর পাক বাহিনীর তিনটি গাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয় উন্মত্ত প্রতিবাদীরা।