
চলতি বছরের শেষেই দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবে যাবে।
শেষ আপডেট: 5 April 2025 18:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকা-চিন শুল্কযুদ্ধে বিশ্ব জুড়ে ফের নতুন করে আর্থিক মন্দার অশনি সঙ্কেত দেখা দিয়েছে। আর্থিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ট্রাম্পের ঘোষিত কিছু নীতির ফলেই বাজারে এক বিশাল অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে অনেক বিনিয়োগকারীই ফের বিশ্বজুড়ে আর্থিক মন্দার উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। বিখ্যাত আর্থিক বাজার ও সম্পদ মূল্যয়নকারী সংস্থা জেপি মরগ্যান শুল্কনীতির প্রাবল্যে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত মন্দার অশনি সংকেত দিয়েছে।
জেপি মরগ্যানের পূর্বাভাস, চলতি বছরের শেষেই দেশ অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবে যাবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে এক চিঠিতে জেপি মরগ্যানের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল ফেরোলি বলেছেন যে, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (গ্রস ডোমেস্টিক প্রোডাক্টস বা জিডিপি) সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফেরোলি আরও জানিয়েছেন মন্দার ফলে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তাঁর কথায়, শুল্কের চাপে আমাদের জিডিপি সঙ্কুচিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। গত বছর আমাদের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ১.৩ শতাংশ। চলতি বছরে আমরা ০.৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি আশা করছি না। যা আগের বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কম। গত ২ এপ্রিল ট্রাম্প অনেক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা করার পরেই এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে সেই শুল্ক কার্যকর হবে।
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরম পাওয়েলও এই নতুন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে তিনি বলেন, নতুন শুল্ক আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি করবে। তিনি জানিয়েছেন, এই ঘোষণার ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশের অর্থ কাঠামোর ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। শুক্রবারই ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ ২,২৩১ পয়েন্ট কমেছে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে মহামারী বিপর্যয়ের পর এটা ছিল সবচেয়ে খারাপ দিন। এস অ্যান্ড পি ৫০০ কমেছে ৬% এবং ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ার সূচক নাসডাক ফিউচার্সের পতন হয়েছে ৫.৮% কমেছে। ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য যুদ্ধকে উস্কে দিয়েছে। চিন ইতিমধ্যেই পাল্টা শুল্কবোঝা চাপিয়ে, মার্কিন পণ্যের উপর ৩৪% পারস্পরিক কর আরোপ করেছে। অন্যান্য দেশও একই পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।
ফেরোলি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক মন্দা মার্কিন কর্মীদের জন্য বেদনাদায়ক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বের হার ৫.৩ শতাংশে পৌঁছবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মার্চ মাসে শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ৪.২% বেকারত্বের হারের তুলনায় এটি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই অর্থনীতিবিদ। মুদ্রাস্ফীতিও বৃদ্ধি পাবে বলে ইঙ্গিত রয়েছে। ফেরোলির কথায় ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ধীরগতিতে বাড়বে।