দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফ্রান্সে কমছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। মার্চ-এপ্রিলে যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, দিনে নতুন সংক্রমণ হচ্ছিল ৩৫ হাজার করে। সেখান থেকে কমে দিনে সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ৩৯০০-য়। এটা দারুণ ভাল খবর বলে জানাচ্ছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্তেক্স। স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, সম্ভবত এমন ধারণা থেকে ফ্রান্স একাধিক কোভিড ১৯ নিয়মবিধি শিথিল করল বুধবার। এবার থেকে বাড়ির বাইরে বেরলে সবসময় মাস্ক পরা আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। গত ৮ মাস ধরে বহাল নৈশকালীন কার্ফুও চলতি সপ্তাহান্তে উঠে যাচ্ছে। রবিবার, পূর্বনির্ধারিত দিনের ১০ দিন আগেই তা তুলে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কাস্তেক্স।
রাস্তায় বসা বাজার, স্টেডিয়ামের মতো ভিড়-জমায়েত হয়, এমন প্রকাশ্য স্থানগুলিতে অবশ্য এখনও বাধ্যতামূলক ভাবে মাস্ক পরতে হবে। এছাড়া কর্মস্থল সহ একাধিক প্রকাশ্য জায়গায় ঘরের ভিতর থাকলেও মাস্ক পরতে হবে। ব্যতিক্রম অবশ্য রেস্তোরাঁ, বার। গত আগস্ট থেকে এমন কম ভাইরাস সংক্রমণের কথা শুনিনি, বলেছেন কাস্তেক্স। ফ্রান্সের সব অঞ্চলেই পরিস্থিতি ভাল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ফরাসিদের একজোট হওয়া, ভ্যাকসিন কর্মসূচির জন্যই এই ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
ফ্রান্সে পরিণতবয়স্ক জনসংখ্যার ৫৮ শতাংশের বেশি অন্ততঃ ভ্যাকসিনের একটি ডোজ পেয়েছে। একদিকে যেমন বিধিনিষেধের বেড়ি উঠছে, অন্যদিকে নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশটি ১২ থেকে ১৮ বছরের ছেলেমেয়েদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে।
গত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্সে নৈশ কার্ফু চালু রয়েছে। জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মে-র মাঝামাঝি যখন ভাইরাস সংক্রমণ সর্বোচ্চ স্তরে ছিল, সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্ফু বহাল থাকত। দােকানপাট বন্ধ থাকত। তবে রাস্তায় হাঁটতে, পোষ্যদের নিয়ে বেরনোয় ছাড় ছিল। ক্রমশঃ কার্ফু শুরুর সময় পিছিয়ে রাত ১১টা হয়। ১৯ মে রেস্তোরাঁ, কাফে টেরেস, থিয়েটার, সিনেমাহল, মিউজিয়াম সবই খুলে যায়। এরপর গত সপ্তাহে রেস্তোরাঁ, কাফের ভিতরের এলাকা, জিম, সুইমিং পুলও ফের খুলে দেওয়া হয়। বড় ধরনের খেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫ হাজার দর্শক থাকতে পারবেন। তবে সবাইকে ভ্যাকসিনের শংসাপত্র বা শেষ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে নেগেটিভ টেস্ট রিপোর্ট দেখাতে হবে।