মার্কিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইরন কোল্ডপ্লের ফ্রন্টম্যান ক্রিস মার্টিনকে (Chris Martin) দায়ী করছেন এই বিতর্কের জন্য। তাঁর বক্তব্য, ক্রিস মার্টিন 'কিস ক্যাম' পর্দায় তাঁদের দেখার পর তাঁরা 'প্রেমের সম্পর্কে' জড়িত আছেন বলে মন্তব্য করেন, যা সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কোল্ড প্লে বিতর্ক
শেষ আপডেট: 26 July 2025 16:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোল্ডপ্লের কনসার্টে মার্কিন সংস্থা অ্যাস্ট্রোনোমার (Astronomer) সিইও এবং তাঁর এইচ আর হেডের ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। অনেকদূর গড়িয়েছে জল। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিইও পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন অ্যান্ডি বাইরন। ব্যক্তিগত জীবনেও নানা জটিলতার মধ্যে পড়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনা বিস্তর। এই যাবতীয় বিতর্কের জন্য কোল্ড প্লে-কেই দুষেছেন তিনি। এবার রক ব্যান্ডের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর (Former CEO Andy Byron to sue Coldplay over viral kiss cam controversy)।
জানা গিয়েছে, অ্যাস্ট্রোনোমার (Astronomer) সংস্থার প্রাক্তন সিইও অ্যান্ডি বাইরন (Andy Byron) কোল্ড প্লে এবং ইভেন্ট আয়োজকদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। অভিযোগ, ব্যান্ডটির কনসার্টে ‘কিস ক্যাম’ পর্দায় তাঁকে এবং অ্যাস্ট্রোনোমারের এইচ আর হেড ক্রিস্টিন ক্যাবটকে (Kristin Cabot) একসঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে হয় তাঁকে।
এই ঘটনার জেরে মানসিক যন্ত্রণা (emotional distress) এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের (invasion of privacy) অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন বাইরন। এই খবর প্রথম ফাঁস করেন সাংবাদিক রব শুটার (Rob Shuter)।
এক মার্কিন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইরন কোল্ডপ্লের ফ্রন্টম্যান ক্রিস মার্টিনকে (Chris Martin) দায়ী করছেন এই বিতর্কের জন্য। তাঁর বক্তব্য, ক্রিস মার্টিন 'কিস ক্যাম' পর্দায় তাঁদের দেখার পর তাঁরা 'প্রেমের সম্পর্কে' জড়িত আছেন বলে মন্তব্য করেন, যা সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কটাক্ষের শিকার হতে হয় বাইরনকে।
এনিয়ে এক আইনজীবী জানিয়েছেন, অ্যান্ডি বাইরনের কোল্ড প্লের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাঁর কথায়, 'যদি বিষয়টা একটু ভেবেচিন্তে দেখা হয়, তবে মানহানির মামলা হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, 'বাইরন মনে করছেন, অনুমতি না নিয়ে তাঁদের কিস ক্যাম পর্দায় দেখানো হয়েছে এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। তাঁর দাবি, কোল্ড প্লে তাঁকে একটা মিমে পরিণত করেছে।' তবে মানহানির মামলা সফল করতে হলে বাইরনকে প্রমাণ করতে হবে যে, ক্রিস মার্টিন জানতেন বা বোঝার মতো পরিস্থিতি ছিল যে তাঁদের মধ্যে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তবু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সেই মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, ক্রিস মার্টিনের তরফেও একটি প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। তিনি ‘কিস ক্যামের’ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার সম্ভাবনার কথা শুনে হেসে ফেলেন। একাধিক আইনজীবীর মতে, এই মামলা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। Page Six-কে একজন আইনজীবী বলেন, '৭০ হাজার মানুষের মধ্যে একটি পাবলিক কনসার্টে যেখানে ক্যামেরা ঘোরাফেরা করে, সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার আশা করা যায় না। এমনটা শুনে মনে হচ্ছে, বাইরন আসলে দায় এড়াতে চাইছেন।'
'কিস ক্যাম' বিতর্ক কী?
সম্প্রতি বস্টনে Coldplay-এর একটি লাইভ শো চলাকালীন ‘কিস ক্যাম’ পর্দায় ধরা পড়ে অ্যান্ডির সঙ্গে এক মহিলার ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত। তাঁকে আলিঙ্গন করে কনসার্ট উপভোগ করছেন অ্যান্ডি। পরে জানা যায়, যাঁকে তিনি জড়িয়ে ধরেছিলেন, তিনি অ্যান্ডির স্ত্রী নন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের অনেকেরই দাবি, পর্দায় দৃশ্যটি দেখানোর পর দু’জনের মুখের অঙ্গভঙ্গিই বলে দিচ্ছিল কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে। মহিলাটি মুখ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, বাইরন মুখ লুকাতে নীচে বসে পড়েন। গায়ক ক্রিস মার্টিন যদিও মঞ্চ থেকেই হাসতে হাসতে বলেন, 'হয় ওরা প্রেম করছে, নয়তো খুব লাজুক!'
কিন্তু মজার সেই মুহূর্তই কিছু সময়ের মধ্যেই চরম অস্বস্তির রূপ নেয়। ভিডিও ভাইরাল হতেই বাইরনের স্ত্রী মেগান সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে স্বামীর পদবী সরিয়ে দেন। শুরু হয় বিচ্ছেদের জল্পনা। ওই ঘটনার পর অ্যান্ডি বাইরনকে তাঁর সংস্থা ‘ছুটিতে’ পাঠায় এবং পরে তিনি পদত্যাগও করেন। অ্যান্ডি বাইরন ও তাঁর স্ত্রী মেগান কেরিগানের (Megan Kerrigan) বিবাহবিচ্ছেদের জল্পনাও সামনে আসে।
ভিডিওতে অ্যান্ডির সঙ্গে যে মহিলাকে দেখা গিয়েছিল, তিনি আরেক ব্যবসায়ী অ্যান্ড্রু ক্যাবটের স্ত্রী। তবে তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্ক সম্ভবত বেশি দিনের নয়। সেই কারণে সেখানেও বিচ্ছেদের সম্ভাবনা থাকলেও সম্পত্তি ভাগ নিয়ে জটিলতা তুলনায় কম হতে পারে।