
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 29 December 2024 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার অবতরণের সময় দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৮১ জনকে নিয়ে ভেঙে পড়ে একটি বিমান। মৃত্যু হয় বিমানে উপস্থিত ১৭৯ জনের। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেজু এয়ারলাইনসের ওই বিমানটি থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্কক থেকে ফিরছিল। অবতরণের মুহূর্তে রানওয়ে থেকে সরে গিয়ে দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা লেগে বিস্ফোরণ ঘটে। এই ঘটনার কয়েক মিনিট আগে প্রিয়জনদের মেসেজ করেছিলেন বিমানে উপস্থিত কয়েকজন। দুর্ঘটনার পর বিমান বন্দর থেকে সেই সব মেসেজই ভেসে আসছে ধীরে ধীরে।
রবিবার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশ মেঘলা। ১৭৯ জনের মৃত্যু মুখে কথা নয়। চারিদিকে আর্ত্মনাদ, কান্না আর আক্ষেপ। যে দু'জন বাঁচলেন, তাঁরা সত্যি ভাগ্যবান বলছেন অনেকে। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তে এবিষয়ে আঁচ করতে পেরেছিলেন বিমান যাত্রীদের অনেকেই। মেসেজ করেছিলেন প্রিয়জন-আত্মীয়দের। সেই সব মেসেজের দু-এক কথাই ভেসে বেড়াচ্ছে বিমান বন্দরজুড়ে।
এক মৃতের পরিবার জানায়, তারা মেসেজ পেয়েছিলেন কয়েক মিনিট আগেই, বিমান যাত্রী তাদের জানিয়েছিলেন, 'জীবনের শেষ কয়েকটা শব্দ কি বলে দেওয়া উচিত আমার!'
আরেকজন তাঁর পরিবারকে লিখেছিলেন, 'বিমানের উইংয়ে পাখি আটকে আছে।'
শুধু মৃতের পরিবারই নয়, দুর্ঘটনার পর বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছেন স্থানীয়রাও। তাঁদের অভিজ্ঞতাও কম ভয়ঙ্কর নয়। এই প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন জানান, তাঁর বাড়ি দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৪.৫ কিমি দূরে। তিনি হঠাৎই একটি বিমানকে নিচের দিকে নামতে দেখেন রবিবার। বিমানে আগুনের ফুলকি লক্ষ্য করেন। তারপরই বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে এলাকা। পর পর কিছু যেন ফাটতে থাকে বোমার মতো। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা।
এমন আরেকজন জানান, লোহা বা ধাতব কিছু ভাঙলে বা পেটালে যেমন আওয়াজ হয়, তেমনই আওয়াজ তাঁরা পেয়েছিলেন বিমানটি আকাশে থাকার সময়। তারপরই দেখতে পান অবতরণ করানো হচ্ছে এবং ৫ মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরণ হয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর মনে করা হচ্ছে, উইংয়ে পাখি আটকে যাওয়া ও খারাপ আবহাওয়া এই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনও বিমানটির পিছনের দিকের অংশ, লেজের দিকের অংশ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। বিমানের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জামা-কাপড়, জলে বোতল। সবই রক্তাক্ত।
এনিয়ে জেজু এয়ারলাইনসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনা কেন্দ্রিক যা যা প্রয়োজন তারা তাই তাই করবে তারা। যা হয়েছে, তার জন্য দুঃখিত ও মর্মাহত।