
শেষ আপডেট: 30 January 2024 15:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইমরান খানের ১০ বছরের কারাদণ্ডের সাজা দিল আদালত। সাইফার মামলায় নির্বাচনের আগে বড় ধাক্কা খেলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দেশের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে ইমরান খানকে কারাদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের বিশেষ আদালত। তবে শুধু তিনি নন, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্য তথা পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকেও সাজা শুনিয়েছে আদালত।
পাকিস্তানের বিশেষ আদালত রায়ে জানিয়েছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথি ফাঁস করেছেন ইমরান। তাঁর সহযোগী ছিলেন বিদেশমন্ত্রী কুরেশিও। সেই অপরাধেই ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁদের। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করতে পারে ইমরানের দল।
ইমরানের বিরুদ্ধে দেশের গোপন তথ্য সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাচারের অভিযোগ ছিল। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে এই মামলার শুনানি হয়। যদিও আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ইমরান ও শাহ মাহমুদের বিচার বাতিল এবং অকার্যকর ঘোষণা করেছিল। তারপরই অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ২০২৩-এর আওতায় এই বিশেষ আদালত গঠন করা হয়েছিল। সেখানেই মঙ্গলবার সাইফার মামলায় ইমরান এবং শাহ মাহমুদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
একাধিক মামলার জেরে ইতিমধ্যেই জেলবন্দি রয়েছেন ইমরান। গত বছর ডিসেম্বরেই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান এবং কুরেশিকে জামিন দিয়েছিল। তবে জামিন পেলেও তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্য মামলাগুলির জন্য জেলেই রয়ে গিয়েছেন ইমরান।
এদিন রায় ঘোষণার পর ইমরানের দলের তরফে বলা হয়েছে, ''এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবে দল। আশা করছি যে এই রায় বাতিল করে দেওয়া হবে। কারণ দু'বার এই মামলার শুনানি বাতিল করে দিয়েছিল ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তারপরও মামলার শুনানি হয়েছে। জনগণ এবং সংবাদমাধ্যম যাতে এই মামলার বিষয়ে জানতে পারে, সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। অথচ আইনি সাহায্য নিতে দেওয়া হয়নি। আর তড়িঘড়ি করে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।''
উল্লেখ্য, ইমরানের কাছে থাকা গোপন কূটনৈতিক তথ্যকে বলা হয় সাইফার। এই তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। ২০২২ সালের মার্চে, ওয়াশিংটনের পাকিস্তান দূতাবাস থেকে পাঠানো হয়েছিল ওই সাইফারটি। অভিযোগ, ইমরান খান সেই কূটনৈতিক তথ্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। যদিও ইমরান খান এবং মাহমুদ কুরেশি, দুজনেই এই অভিযোগকে পাকিস্তানে পিটিআই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেন।