২০১৩ সালের গবেষণা বলছে, বিমানে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার মধ্যে মাত্র ০.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয় অর্থাৎ এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

প্রতীকী ছবি (এআই)
শেষ আপডেট: 22 March 2026 17:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গন্তব্য ছিল লন্ডন (Hong Kong to London Flight)। সেইমতো হংকং বিমানবন্দর থেকে বিমানে উঠেছিলেন ষাটোর্ধ্ব মহিলা। কিন্তু ব্রিটিশ এয়ারওয়েসের ফ্লাইট (British Airways Flight) টেকঅফ হওয়ার পরই মৃত্যু হয় তাঁর, এই অবস্থাতেই ১৩ ঘণ্টার বেশি সময়ের জার্নি করে লন্ডনে পৌঁছয় বিমান।
ঠিক কী ঘটেছিল?
হংকং থেকে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ বিমান (Airbys A350-1000)। টেকঅফের কিছুক্ষণ পর মহিলা যাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। ক্রু এবং যাত্রীরা চেষ্টা করলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।
নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রী যদি আগেই মারা যান, তাহলে সেটিকে সাধারণত 'মেডিক্যাল এমার্জেন্সি' (Medical Emergency) হিসেবে ধরা হয় না। তাই পাইলটরা হংকংয়ে ফিরে না গিয়ে লন্ডনের পথেই এগিয়ে যান।
মৃতদেহ কোথায় রাখা হয়?
প্রথমে বাথরুমে রাখার কথা ভাবলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর দেহটি কাপড়ে মুড়িয়ে বিমানের পিছনের গ্যালারিতে রেখে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু ওই অংশের ফ্লোরে হিটার থাকায় ধীরে ধীরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। ক্রুর এক সদস্য জানিয়েছেন, "প্রৌঢ়ার মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছিল। আমাদেরও খুব খারাপ লেগেছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী মৃত যাত্রীর ক্ষেত্রে তো যাত্রাবিরতি জরুরি নয়। তাই পাইলটরা সেই নিয়ম মেনেছেন।"
লন্ডনে নেমেই তদন্ত
লন্ডনে নামার পর পুলিশ বিমানে উঠে তদন্ত শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিট সব যাত্রীকে আসনে বসেই থাকতে হয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, “একজন যাত্রীর মৃত্যুতে আমরা ব্যথিত। তাঁর পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। সমস্ত নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
মাঝ আকাশে মৃত্যু, প্রটোকল কী?
আইএটিএ (International Air Transport Association)-র নিয়ম অনুযায়ী, মৃতদেহ সাধারণত ব্যাগে বা চাদরে ঢেকে রাখা হয়, সম্ভব হলে কম নজর পড়ে এমন জায়গায় সরিয়ে রাখা হয়। আবার অনেক সময় যাত্রীদের আসনেই রাখা যেতে পারে।
২০১৩ সালের গবেষণা বলছে, বিমানে চিকিৎসা-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থার মধ্যে মাত্র ০.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু হয় অর্থাৎ এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল।