1.jpeg)
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রঘুরাম রাজন
শেষ আপডেট: 22 January 2025 08:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই যোজনা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে টলিয়ে দিতে পারে।
মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF) ২০২৫-এর সাইডলাইনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাজন বলেন, "ট্রাম্পের ট্যারিফ বৃদ্ধির হুমকি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধোঁয়াশার সৃষ্টি করবে এবং অস্থিরতার কারণ হতে পারে।"
রঘুরাম রাজনের কথায়, " মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও যে এটি খুব লাভজনক হবে তা নয়। কারণ পণ্য বিদেশে উৎপাদন করাই হয় তা যতটা সম্ভব সস্তায় উৎপাদনের জন্য। এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনতে শুল্ক আরোপ করলেও কার্যত তা কার্যকরী হবে না।"
চিনের উদাহরণ দিয়ে রাজন আরও বলেন, "যা চীনে তৈরি হচ্ছে, তা সহজেই ভিয়েতনামের মতো ছোট দেশে স্থানান্তরিত হতে পারে। এভাবে উৎপাদন অন্যত্র সরানো সম্ভব হলে শুল্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্য সফল হবে না।"
বিশ্ববাজারে বিনিয়োগ অনিশ্চয়তা
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নরের মতে, "যদি শুল্ক রাতারাতি পরিবর্তন হতে থাকে, তাহলে কোথায় বিনিয়োগ করা উচিত সে বিষয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, পাল্টা শুল্কের সম্ভাবনাও রয়েছে।"
ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে রঘুরামের বক্তব্য, আমার বিশ্বাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনটি মূল সুবিধার কথা মাথায় রেখে এটা বলছেন, — এক, প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা, দুই- রাজস্ব বাড়ানো এবং একটি উৎস হবে এবং তিন, এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ব্রিকস দেশগুলির জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক
শপথ নেওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ব্রিকস (BRICS) দেশগুলি যদি বৈশ্বিক বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগ নেয়, তবে তিনি তাদের ওপর ১০০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করবেন। বিশ্ব অর্থনীতিতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন দেখার কোথাকার জল কোথায় গড়ায়।