
ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 10 April 2025 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুল্ক যুদ্ধ (US Tariff) আপাতত বন্ধ রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নয়া শুল্কনীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের আচমকা এই 'ভোলবদল' স্বস্তি দিয়েছে ভারত সহ একাধিক দেশকে। যদিও স্বস্তি পায়নি চিন (China)। কারণ বেজিংয়ের প্রতি সদয় হননি ট্রাম্প। বরং জিংপিংয়ের দেশের ওপর শুল্ক আরও বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গত ২ এপ্রিল থেকে নয়া শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানিয়েছিল হোয়াইট হাউস। বাকি দেশগুলি এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চাইলেও চিন পাল্টা তাঁদের ওপর শুল্ক চাপায়। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প শেষ ক'দিনে চিনের ওপর শুল্কর হার বাড়িয়েছেন। শেষ ঘোষণা অনুযায়ী, চিনা পণ্যের ওপর ১২৫ শতাংশ হারে শুল্ক ধার্য্য করেছে আমেরিকা। তবে বাকি সব দেশকে আগামী ৩ মাসের জন্য 'রেহাই' দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ৫০টিরও বেশি দেশ আমেরিকার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাঁরা শুল্ক নিয়ে আলোচনা চাইছে। কিন্তু এই তালিকায় শুরু থেকেই চিন ছিল না। বরং আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। আমেরিকার নতুন শুল্কনীতির যোগ্য ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেবে বেজিং। কার্যত তারপরই ট্রাম্প নতুন করে শুল্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
NEW TRUTH SOCIAL FROM PRESIDENT TRUMP:
— The White House (@WhiteHouse) April 9, 2025
????????125% TARIFF ON CHINA
????90-DAY PAUSE & LOWERED 10% RECIPROCAL TARIFF FOR OTHER COUNTRIES
????EFFECTIVE IMMEDIATELY pic.twitter.com/Gt5Bd6276m
আসলে এই নয়া শুল্কনীতি ঘিরে আমেরিকার অন্দরেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। অধিকাংশ বড় শহরে ট্রাম্পের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় পথে নেমেছিল মানুষ। তার মধ্যে ছিল এই নয়া শুল্কনীতিও। পাশাপাশি আমেরিকার শেয়ার বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে সব দেশের ওপর নয়া শুল্কনীতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প। সার্বিকভাবে আগামী কয়েকদিনে কী পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেটাই পরখ করতে চাইছেন তিনি। যদিও চিনের বিষয়টি আলাদা। বেজিংয়ের পাল্টা সিদ্ধান্তে হয়তো তাঁর 'আঁতে ঘা' লেগেছে। সেই কারণে তাঁদের প্রতি ট্রাম্প কঠোর মনোভাবই দেখিয়ে চলেছেন।
চিন পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য চাপ বাড়াতেই থাকে, তাহলে চিনও দৃঢ়তার তার জবাব দিয়ে যাবে। তাঁদের এও বক্তব্য, আমেরিকা শুল্ক বৃদ্ধির নীতি নিয়ে ওদের কায়েমি স্বার্থ মেটাতে চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। এটাকে ওরা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।