দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউক্রেনের ওদ্দেসা শহরের নেমো ডলফিনেরিয়ামে তখন খুশির আমেজ। দূর-দূরান্ত থেকে ডলফিন দেখতে এসেছে কচিকাঁচা-সহ বহু পরিবার। পুল থেকে লাফিয়ে উঠছে ডলফিনরা, করছে নানা অঙ্গভঙ্গি, আর সেই দেখে আহ্লাদে আটখানা সবাই। হঠাৎই এক শিশুর আর্তনাদে ভাটা পড়ল সেই আনন্দে। জল থেকে লাফিয়ে উঠে একটি ডলফিন কামড়ে ধরেছে তার হাত! যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠতেই শিশুটির হাত ছেড়ে দিয়ে আবার পুলের জলে ডুবে যায় ডলফিনটি। পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিলেন মা। ক্যামেরাতেও রেকর্ড হল সেই ভয়াবহ দৃশ্য।
জানা গেছে, ৬ বছরের ছেলেকে ডলফিন দেখাতে এনেছিলেন মা। উচ্ছ্বাসে পুলের কাছে ঝুঁকে পড়ে জলের ওপর হাত বাড়িয়েছিল ছেলেটি। সেই দেখেও কোনও আশঙ্কা হয়নি মায়ের। তিনি কৌতূহল ভরে ক্যামেরাবন্দি করছিলেন সেই মুহূর্ত। তার মধ্যেই বিপত্তি। ডলফিন হাত কামড়ে ধরতেই ছেলের চিলচিৎকারে চমকে উঠলেন মা।
ডলফিনের কামড়ে শিশুটির কচি হাতে রীতিমতো ক্ষত হয়ে যায়। স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে অনেকগুলো সেলাই পড়ে হাতে। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই নিমেষে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের সঙ্গে ডলফিনের সম্পর্ক বরাবরই বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। নানারকম ভাবে মানুষের মনোরঞ্জনই করে ডলফিন। কিন্তু হঠাৎ একটা শিশুর প্রতি এমন হিংসাত্মক আচরণ কেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না কেউ।
নেমো পুলের ডলফিনদের প্রধান প্রশিক্ষক ওলেনা কোমোগোরোভা জানান, শিশুটিকে আঘাত করা ডলফিনটির উদ্দেশ্য ছিল না। জলে কেউ হাত বাড়ানো মানেই ওরা ধরে নেয় খাবার দেওয়া হচ্ছে। তাই খাবার ভেবে লাফিয়ে উঠে সেদিন এক ডলফিন বাচ্চাটির হাত ধরে ফেলে।
এই ঘটনায় অবশ্য নড়েচড়ে বসেছে ডলফিনেরিয়াম কর্তৃপক্ষ। কর্মীদের নিষেধ সত্ত্বেও দর্শনার্থীরা প্রায়ই পুলের কাছে চলে যাচ্ছেন কিংবা জলে হাত বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে তাই সতর্কতা বিধি আরও জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
গোটা ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন আহত শিশুর মা। জানান, তাঁর দোষেই এমন দুর্ঘটনা ঘটল। ছেলেকে পুলের জলে হাত বাড়াতে দেখেও তিনি বাধা দেননি। অতএব, নেমো ডলফিনেরিয়ামের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই।