
প্রতীকী চিত্র।
শেষ আপডেট: 23 March 2024 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিএনএ বা ডিঅক্সি-রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড। বলা হয়, জীবনের অন্যতম মহাগুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও জীববিজ্ঞানের স্পষ্টতম নির্ণায়ক। অপরাধবিজ্ঞানে কাউকে শনাক্ত করতে এই বৃহদাণুর জুড়ি মেলা ভার। সূক্ষ্ম যে কোনও তল থেকে থুতু, রক্ত, চুল, নখ, চামড়ার অংশ যে কোনও উপাদান থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা যায়। মোড় ঘুরে যেতে পারে তদন্তের।
রবার্ট প্লিমটনের বয়স ৬০। টাকমাথা, ভারি চেহারার এই ভদ্রলোককে দেখলে আপাতদৃষ্টিতে কিছুই মনে হবে না। অথচ এই আপাত নিরীহ লোকটির পিছনেই আদাজল খেয়ে পড়েছিলেন দুঁদে গোয়েন্দারা। নিঃসাড়ে চলছিল অনুসরণ, নজরদারি। ফিরছিলেন কাজ থেকে। অনুসরণ করছিলেন গোয়েন্দারাও। প্লিমটনের মুখে ছিল চুইং গাম। যেমন এমনিতে হয়, চিবিয়ে ছিবড়ে করে আপনমনে ফেলে দিলেন রাস্তার ধারে। অথচ ওই ফেলাটাই কাল হল প্লিমটনের।
গোয়েন্দারা দ্রুত সংগ্রহ করলেন সেই চুইং গাম। তারপর তাতে লেগে থাকা লালারস বিশ্লেষণ করেই পাওয়া গেল সেই মহার্ঘ বস্তুটি, যার আসায় এতদিন ধরে ছায়ার মত প্লিমটনের পিছনে সেঁটেছিলেন তাঁরা। পাওয়া গেল তাঁর ডিএনএ। যা হুবহু মিলে গেল ১৯৮০ সালের ১৫ জানুয়ারি হওয়া এক হাড়হিমকরা খুনের ঘটনার সঙ্গে!
ঘটনা আমেরিকার ওরেগনের। উত্তর পশ্চিমে ওয়াশিংটন প্রদেশের দক্ষিণে অবস্থিত এই ওরেগনের গ্রেশামে অবস্থিত মাউন্ট হুড কমিউনিটি কলেজের ছাত্রী ছিলেন উনিশ বছরের বারবারা টাকার। একদিন সকালে কলেজ সংলগ্ন পার্কিং লটের কাছে এক ঝোপে তাঁর রক্তাক্ত চেহারা পাওয়া যায়। নৃশংসভাবে কেউ তাঁকে খুন করেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আগের রাতে অনেকেই একজন ছাত্রীকে চিৎকার করতে শুনেছে। কিন্তু কেউ ঠাহর করতে পারেনি। সে সময় এসব জায়গায় বেশি বসতি ছিল না। মফস্বল এলাকা। ফলে কেউ শুরুতে গা করেনি। ময়নাতদন্তের পরে বারবারা টাকারের দেহ থেকে মেলে আততায়ীর বেশ কিছু দেহাবশেষ। সেসব থেকেই সন্ধান পাওয়া যায় আততায়ীর ডিএনএর। কিন্তু অনেক খুঁজেও সম্ভাব্য কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ।
পরে ভার্জিনিয়ার এক ডিএনএ প্রযুক্তি সংস্থা 'প্যারাবন ন্যানোল্যাবস'কে বলা হয় বারবারার ময়নাতদন্ত থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলটা খতিয়ে দেখতে। বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষার পর কিছু সূত্র পান বিজ্ঞানীরা। চলতে থাকে অনুসন্ধান। শেষে নানা অঙ্ক কষে, শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের চিহ্ন মিলিয়ে রবার্ট প্লিমটনের ওপর সন্দেহ দৃঢ় হয় তদন্তকারীদের। কিন্তু প্রমাণ কীভাবে পাওয়া যাবে? চাইলেই তো আর কাউকে এইভাবে ডিএনএ নমুনা দিতে বাধ্য করা যায় না। ফলে তক্কে তক্কে ছিলেন গোয়েন্দারা। অবশেষে, প্লিমটনের চুইং গাম থেকেই চল্লিশ বছর আগেকার খুনের কিনারা করল পুলিশ।