
বাংলাদেশের নিহত এমপি’র অসৎ সঙ্গ
শেষ আপডেট: 2 June 2024 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে এখন তিনটি নাম নিয়ে রাজনীতির ময়দান উত্তপ্ত। কলকাতায় আওয়ামী লিগ সাংসদ আনোয়ারুল আজিম আনারের হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও তিনি যে অসৎ সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই তদন্তকারীদের। বস্তুত সীমান্ত চোরাচালানে যুক্ত একটি চক্র তাঁকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে। চোরাচালানের মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত একজন কীভাবে শাসক দলের চারবারের সাংসদ হতে পেরেছিলেন সে প্রশ্ন ধেয়ে আসছে আওয়ামী লিগের দিকে। দলের অন্দরেও এ নিয়ে তোলপাড় চলছে।
অন্যদিক, গত দিন পনেরো যাবত পুলিশ ও সেনার দুই সাবেক কর্মকর্তার কীর্তি নিয়েও অস্বস্তিতে আছে আওয়ামী লিগ। অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রধান আজিজ আহমেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আমেরিকা। তাতে ব্যক্তি আজিজ আহমেদের তুলনায় সরকার তথা শাসক দলেরই অস্বস্তি বেশি বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। মার্কিন প্রশাসন দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, মানবাধিকার হরণ এবং আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারের হয়ে কাজ করা অফিসারদের বিরুদ্ধে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে থাকে। এর ফলে ওই অফিসার এবং তাঁর পরিবারের কেউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের অনুমতি পাবেন না।
তৃতীয় ব্যক্তির নাম বেনজির আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি বা বাহিনী প্রধান। তাঁর আয় বহির্ভূত বিপুল সম্পত্তির হিসাব দিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঢাকার একটি দৈনিক। তার ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তার বেআইনি সম্পত্তির খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে দুদক বা বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। আদালতের নির্দেশে তারা এখনও পর্যন্ত যে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করছে তার অর্থমূল্য হাজার কোটির বেশি হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত। ঢাকার অভিযান এলাকায় তাঁর চার-পাঁচটি ফ্ল্যাট, বিপুল জমি, শেয়ার বাজার ও ব্যাঙ্কে বিপুল সঞ্চয় ইত্যাদির সন্ধান পেয়েছে দুদক।
এরই মধ্যে আর এক বিতর্ক দেখা দিয়েছে বেনজির আহমেদের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে। তিনি দেশে আছেন নাকি বিদেশে গা ঢাকা দিয়েছেন সে ব্যাপারে সরকারি কর্তারা নিশ্চিত নন। বিরোধী দল বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফকরুল আলমগীর অভিযোগ তুলেছেন সরকারি সহায়তায় বিদেশে পালিয়েছেন বেনজির।
অন্যদিকে, সাবেক সেনা প্রধান আজিজ আহমেহেদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণ এবং নিজের ভাইদের নানা সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে বেনজির আহমেদ ও আজিজ আহমেদ দু’জনেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার কি ব্যবস্থা নেবে?
ঘটনা হল, শেখ হাসিনা সরকারের বিগত পনেরো বছরের শাসনামলেই আনোয়ারুল, বেনজির এবং আজিজের উত্থান হয়। আনোয়ারুল মর্মান্তিতভাবে নিহত হয়েছেন। তাঁর বিষয়ে শাসক দল খুব বেশি শব্দ ব্যয় না করলেও আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতৃত্ব পুলিশ ও সেনার সাবেক প্রধানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে।
দেশের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি বলেছেন, অবসরপ্রাপ্ত সেনা প্রধানের বিরুদ্ধে সেনা আইনেই ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সেনা বাহিনী নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। একই কথা বলেছেন, আওয়ামী লিগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তাঁর সাফ কথা, সরকার কাউকে আড়াল করবে না। আইনের পরিধির মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লিগ সূত্রের খবর, দলীয় এমপি’র কলকাতায় খুন হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং সেনা ও পুলিশের সাবেক প্রধানদের বিরুদ্ধে কর্মরত অবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দল ও সরকারে শুদ্ধকরণের বার্তা দিতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী তথা দলনেত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর তিন শীর্ষ মন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সরকার পূর্ণ ক্ষমতা দিয়েছে। সেই বার্তা পেয়েই কালক্ষেপ না করে দুদক প্রাক্তন আইজি’র সম্পদ আটক করা হয়েছে। বিরোধীদের অবশ্য অভিযোগ, তিনজনের ক্ষেত্রেই বহু আগে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার ছিল। সাবেক আইজির সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ বারে বারে সামনে এসেছে। মানবাধিকার হরণের অভিযোগগুলি তাঁর সময়ে গুরুত্ব পায়নি। একাধিকবার তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে পুলিশ বাহিনীকে ব্যবহারের অভিযোগও ওঠে।