
বিমান দুর্ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেন পুতিন
শেষ আপডেট: 28 December 2024 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজাখস্তানে আজারবাইজান এয়ারলাইনসের বিমান ভেঙে পড়ার ঘটনায় রাশিয়ার দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে। মনে করা হয়েছে, তাঁদের ছোড়া মিসাইল হামলায় তা ভেঙে পড়ে। যদিও রাশিয়া সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এবার প্রতিক্রিয়া দিলেন খোদ সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইলেন তিনি।
আজারবাইজান এয়ারলাইনস আগেই দাবি করেছে, বহিরাগত কোনও কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। এরই মধ্যে রাশিয়ার তরফ থেকে ক্ষমা চাওয়া হল এই ঘটনার জন্য। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘটনায় শোকাহত। রাশিয়ার আকাশসীমার মধ্যে বিমান ভেঙে পড়ায় তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। এই বার্তার পরই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দুর্ঘটনার দায় পরোক্ষে স্বীকার করে নিল রাশিয়া?
ওই বিমানটি বাকু থেকে রাশিয়ার গ্রোজনিতে যাচ্ছিল। মাঝপথে কোনও এক কারণে তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রাশিয়ার দিকে আঙুল তোলা ছাড়াও অনেকে মনে করেছিলেন, পাখির ঝাঁকের সঙ্গে কোনওভাবে ধাক্কা লেগেছিল বিমানটির। তাতেই কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি তৈরি হয়। এছাড়া বিমানের ইঞ্জিনেও কোনও সমস্যা থাকতে পারে যা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। যদিও এর একটি দাবিরও অকাট্য কোনও প্রমাণ এখনও মেলেনি।
এদিকে রাশিয়া স্পষ্টত বলেছে, বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত চলছে তাই আগে থেকে যেন কেউ কিছু কল্পনা না করে ফেলেন। কেউ কেউ এখনই বিষয়টি নিয়ে নানারকম দাবি করছেন, সেগুলি ঠিক নয়। প্রসঙ্গত, আজারবাইজান প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কাজাখস্তান প্রশাসনও আলাদাভাবে ঘটনার তদন্ত করছে।
বিমানটিতে ৩৭ জন আজারবাইজানের, ১৬ জন রাশিয়ার, ৬ জন কাজাখস্তানের এবং ৩ জন কিরগিস্তানের বাসিন্দা ছিলেন। আকতাউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক এক সংবাদসংস্থায় মুখ খুলেছেন উদ্ধার হওয়া কয়েকজন যাত্রী। তাঁরা বলেছেন, আচমকা প্লেনে ঝাঁকুনি হতে শুরু করে। তাঁরা পাইলট কেবিন থেকে তিনবার জোরে আওয়াজও পান, যেন কেউ দরজায় ধাক্কা মারছে! যাত্রীদের ব্যাখ্যায়, মাতাল যেমন হেলেদুলে হাঁটে ঠিক তেমনই তাঁদের বিমানটি দুলতে শুরু করেছিল। তারপরই হয় দুর্ঘটনা।