
শেষ আপডেট: 27 October 2023 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাতের আঁধারে মার্কিন বি-৫২ ফাইটার জেটের রেডারে ধরা পড়ল অদ্ভুত দৃশ্য। আচমকাই পাইলট দেখলেন চিনা জে-১১ যুদ্ধবিমান একেবারে নাকের ডগায় চলে এসেছে। দক্ষিণ চিন সাগরের ওই এলাকায় আকাশসীমা লঙ্ঘনের অনুমতি নেই চিনের। যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশ বারে বারেই ঘটে। কিন্তু নীতি ভেঙে একেবারে মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে মাত্র ১০ ফুট ব্যবধানে চিনা ফাইটার জেটের চলে আসাকে মোটেও ভাল চোখে দেখছে না পেন্টাগন।
মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের তরফে এক্স-হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, চিনের জে-১১ যুদ্ধবিমান একেবারে মার্কিন যুদ্ধবিমানের কাছ ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। আতর্কিতে হামলার লক্ষ্য ছিল কি তাদের? মার্কিন বি-৫২ যুদ্ধবিমানের পাইলট জানিয়েছেন, রেডারে চিনা যুদ্ধবিমানকে দেখেই তারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন। কোনওরকম বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি হলে পাল্টা জবাব দিত মার্কিন যুদ্ধবিমানও।
এই ঘটনা প্রথম নয়। গত বছরও মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমানের খুব কাছাকাছি এসে পড়েছিল একটি চিনা ফাইটার জেট। মুখোমুখি সংঘর্ষ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মার্কিন পাইলট কৌশলে সংঘর্ষ এড়িয়ে যান। এবারের ঘটনাও অনেকটা তেমনই।
#USINDOPACOM Statement on #PRC Unprofessional Intercept: "A People’s Republic of China J-11 pilot executed an unsafe intercept of a U.S. Air Force B-52 aircraft which was lawfully conducting routine operations over the South China Sea..."
— U.S. Indo-Pacific Command (@INDOPACOM) October 26, 2023
Read more⬇️https://t.co/UnCmnneAr7 pic.twitter.com/6k79Koah3V
মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানাচ্ছে, চিনা যুদ্ধবিমানটি বিপজ্জনকভাবে উড়ে এসেছিল। মার্কিন বিমানটি আইন মেনেই দক্ষিণ চিন সাগরের উপর আন্তর্জাতিক আকাশসীমার মধ্যে রাতের বেলা রুটিন টহল দিচ্ছিল। কিন্তু, আচমকা চিনা বিমানটি একেবারে কাছে এসে পড়ে। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় আকাশসীমায় নজরদারি চালায় মার্কিন ইন্দো-প্যাসিফিক জয়েন্ট ফোর্স। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কেউ অবৈধভাবে আকাশসীমায় ঢুকে পড়ছে কিনা সেদিকে সতর্ক নজর রাখে মার্কিন বায়ুসেনা। যদিও বেজিং দাবি করেছে, কোনওরকম অভিসন্ধি তাদের ছিল না। রুটিন মহড়া দিতে গিয়েই বিমানটি ওই এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং বেরিয়েও যায়।
দক্ষিণ চিন সাগর সম্পূর্ণভাবে তাদের বলে দাবি করে চিন। দক্ষিণ চিন সাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বারবারই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বেজিং। মার্কিন রণতরী ও যুদ্ধবিমানগুলি যাতে ওই এলাকা থেকে চলে যায়, একাধিকবার সেই দাবি জানিয়েছে তারা। তবে সেই দাবি উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, দক্ষিণ চিন সাগরের স্বতন্ত্রতা রক্ষার পূর্ণ অধিকার আছে তাদের। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের প্রান্তে দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া চিন। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রবালপ্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট পাথুরে দ্বীপের এলাকা কৃত্রিম ভাবে বাড়িয়ে সেটিকে সামরিক ঘাঁটি বানানোর উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই আমেরিকা দাবি করেছিল যে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে চিনের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত দু’বছরে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর চিনের যুদ্ধবিমানের আনাগোনা বেড়েছে। যখন তখন চিনা ফাইটার জেট আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে দক্ষিণ চিন সাগরের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ছে।