
শেষ আপডেট: 17 January 2024 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চিনের জনসংখ্যায় রেকর্ড পতন হল। জন্মহারও কম। চিনের জাতীয় পরিসংখ্যাণ দফতর (এনবিএস) বুধবার যে রিপোর্ট সামনে এনেছে তা চমকে দেওয়ারই মতো। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৩ সালে চিনের জনসংখ্যা কমে হয়েছে ১৪০ কোটি ৯০ লাখ যা গত বছরের তুলনায় ২০ লাখ ৮০ হাজার কম।
জনস্ফীতির সাঁড়াশি চাপে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এই আশঙ্কায় চিন যে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু করেছিল, তাই এখন অভিশাপ হতে চলেছে। কমছে জনসংখ্যা, কমছে জন্মহার। এর প্রভাব সরাসরি চিনের অর্থনীতির ওপর পড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালে চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। গত চার দশকে যা সবচেয়ে খারাপ। অবশ্য এই পরিসংখ্যানের নেপথ্যে জনসংখ্যার চেয়ে কোভিডের ভূমিকা বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই হারে চিনের জনসংখ্যা কমতে শুরু করলে অদূর ভবিষ্যতে এটাই হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ।
রিপোর্ট বলছে, ১৯৪৯ সালে চিনে যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল, ২০১৯ সালের হিসেবে সেটা অনেকটাই কম। শুধু কম নয়, রীতিমতো উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৪৯ সালের পর থেকে চিনে প্রতি হাজার জনে জন্মহার ছিল ১০.৯৪। আর এ বছর প্রতি হাজার জনে জন্মহার ৬.৩৯
জন্মহারের এই পতন শুরু হয়েছে ১৯৮০ সালের পর থেকে। ১৯৭৯-তে চিনে ‘এক সন্তান নীতি’ চালু হওয়ার পর থেকেই হুড়মুড়িয়ে কমেছে শিশু জন্মের হার। রিপোর্ট বলছে, এই নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে দেশ জুড়ে দশ লক্ষ পরিবার তাদের একমাত্র উত্তরাধিকারীকে হারিয়েছেন। আগামী ২০-৩০ বছরে আরও ৪০ থেকে ৭০ লক্ষ পরিবারকে এই অবস্থার শিকার হতে হবে। ২০১৬ সালেই ‘এক সন্তান নীতি’ প্রত্যাহার করে দুই সন্তানের অনুমোদন দিয়েছিল চিন। কিন্তু তার পরেও জন্মহারের পতন অব্যাহত। এখন চিনের পার্লামেন্টের সদস্যেরা দাবি করছেন, প্রজননের উপর নিয়ন্ত্রণমুক্তি, অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য বিশেষ কর-ছাড়, বিনামূল্যে শিক্ষা-স্বাস্থ্যের সুবিধা না বাড়ালে এই অন্ধকার পথের শেষ হবে না।
২০১৯ সালের হিসেবে চিনের জনসংখ্যা ১৪১ কোটি। ২০২৯ সালের মধ্যে সেটাই ১৪৪ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জন্মহারের যেভাবে পতন শুরু হয়েছে তাতে ২০৬৫ সাল নাগাদ রেকর্ড পতন হবে জনসংখ্যার। সেটা কমে দাঁড়াতে পারে ১১৭ কোটিতে।