দ্য ওয়াল ব্যুরো: উহানের 'ওয়েট মার্কেট' থেকে করোনার সংক্রমণ ছড়িয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ল্যাব-লিক থিওরি নিয়ে এখনও তর্ক-বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই শোনা গেছে কোভিডের (Covid) অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্টের নতুন প্রজাতির তাণ্ডব শুরু হয়েছে চিনে। ডেল্টা কোভিডের সুপার-স্প্রেডার ভ্যারিয়ান্ট। এরই ফের জিনগত বদল হয়ে আর এক উপপ্রজাতির জন্ম হয়েছে বলে দাবি করেছেন চিনের ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা। নতুন এই প্রজাতি নাকি দ্রুত ছড়াতে পারে এবং ইতিমধ্যেই এর সংক্রমণে আক্রান্তের হার বাড়তে শুরু করেছে।
চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন রিপোর্ট দিয়েছে, ঝেঝিয়াং প্রদেশে ১৩৮ জনের মধ্যে ডেল্টার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আক্রান্তদের শরীরে পাওয়া কোভিড স্ট্রেনের জিনোম সিকুয়েন্স বা জিনের গঠন বিন্যাস বের করে ডেল্টার নতুন প্রজাতির হদিশ মিলেছে। ডিসেম্বর ৫ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে ঝেঝিয়াং সহ আরও কয়েকটি প্রদেশে এই ডেল্টার এই নতুন প্রজাতির সংক্রমণ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড় চলছে, এর মধ্যেই ডেল্টার রূপ বদল হয়ে আরও নতুন প্রজাতির জন্ম হচ্ছে। সংক্রমণের নতুন ঢেউ ফের ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দিতে পারে কিনা সে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ডেল্টার কোন প্রজাতির সংক্রমণ শুরু হয়েছে চিনে?
চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন জানাচ্ছে, ডেল্টার নয়া প্রজাতির নাম এওয়াই.৪ (AY.4)। জটিল রোগের কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। গুয়াংঝৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, সংক্রমিত হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হয়ে উঠছে। প্রতি দশ জনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ জনের শরীরেই সংক্রমণের উপসর্গ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জ্বর বা শুকনো কাশির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে অনেকেরই। গবেষকরা বলছেন, গত বছর চিনে করোনার যে প্রজাতি ছড়িয়েছিল তার থেকেও বেশি সংক্রামক এই ডেল্টা প্রজাতি। অনেক বেশি ছোঁয়াচেও।

ডেল্টার পরে আরও এক প্রজাতির তাণ্ড শুরু হয়েছিল যার নাম সি.১.২ (C.1.2)। প্রথম খুঁজে পাওয়া যায় দক্ষিণ আফ্রিকায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বছর মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় কোভিডের এই নতুন প্রজাতির দেখা মেলে। এর পরে চিন, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, মরিশাস, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইৎজারল্যান্ডে সি.১.২ প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রজাতিই ফের রূপ বদলেছে কিনা সেটাই জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।
করোনার উৎস উহানের বায়োসেফটি ল্যাবরেটরি কিনা সে প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। কোভিডের উৎস খুঁজতে চিনে বারে বারে গবেষক দল পাঠানো হলেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা নানারকম মত দিয়েছেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহারে ওয়েট মার্কেটে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। তারপর থেকে এই ভাইরাস অতিমহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বেই। চিন জৈব-রাসায়নিক মারণাস্ত্র তৈরি করতে গিয়েই ভাইরাস ছড়িয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে বারে বারেই। আমেরিকা বরাবরই দাবি করে এসেছে, সি-ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। আসলে চিন রাসায়নিক মারণাস্ত্র হিসেবে ভাইরাস বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। যদিও চিন এইসমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, প্রকৃতিই করোনাভাইরাসের উৎস। ল্যাব থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ অযৌক্তিক ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'