
চাঁদে গুহার খোঁজ!
শেষ আপডেট: 16 July 2024 08:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঁদের মাটিতে এই প্রথম গুহার সন্ধান পেলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা! গুহাটি চাঁদের মাটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার গভীর বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এখন থেকেই মনে করছেন, ওই গুহার আশপাশে মানুষের বসবাস শুরু করা সম্ভব হতে পারে। তাঁদের মতে, এ হয়তো সবে শুরু, এমন কয়েকশো গুহাও থাকতে পারে চাঁদে।
নাসা সূত্রের খবর, তাদের লুনার রিকনেইস্যান্স অরবিটার (এলআরও) নামক একটি ব়্যাডার থেকে এই তথ্য মিলেছে কিছুদিন আগেই। ইতালির একদল বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে এই নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এর পরে সোমবার নেচার অ্যাস্ট্রনমি নামক এক জার্নালে এ সংক্রান্ত একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হলে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে।
জার্নালে বলা হয়েছে, চাঁদের গুহাটি ৪৫ মিটার চওড়া মুখের এবং ৮০ মিটার লম্বা। আয়তনে প্রায় ১৪টি টেনিস কোর্টের সমান। চাঁদের মাটির ১৫০ মিটার নীচ পর্যন্ত গভীর এই গুহা। আজ থেকে কয়েক কোটি বছর আগে চাঁদে লাভা উদগীরণের ফলে এই গুহা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজ থেকে ৫৫ বছর আগে অ্যাপোলো-১১ এর মহাকাশযানে করে নীল আমস্ট্রং চাঁদের ঠিক যেখানে নেমেছিলেন, সেখান থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে এই গুহা।
প্রসঙ্গত, চাঁদে মানুষের বসবাস করা সম্ভব কিনা, সেই নিয়ে গবেষণা চলছে বেশ কয়েকটি দেশে। চাঁদে স্থায়ী বসতি গড়ে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা অনেকদিনেরই। চাঁদের রেডিয়েশন, অত্যাধিক তাপমাত্রা, আবহাওয়া-- এসবই মানুষের বসবাসের অনুকূল হতে পারে কিনা, তাই নিয়েই মূল গবেষণা চলছে। এর মধ্যে গুহার খবরটি সেই গবেষণাকে অনেকটা এগিয়ে দিল।
মহাকাশচারীদের আশ্রয়স্থল হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে এই গুহা। সেক্ষেত্রে আর চাঁদে থাকার জন্য চাঁদের পিঠে কোনও নির্মাণ গড়তে হবে না। তবে সে ক্ষেত্রে কিছু বাধাও রয়েছে। কারণ মহাকাশচারীদের অত গভীরে পৌঁছতে হবে প্রথমে। তবে পৌঁছনো যাবে গুহায়। সেক্ষেত্রে চাঁদের মাটির গঠন জানা অত্যন্ত জরুরি।
ব্রিটিশ মহাকাশচারী হেলেন শারমান জানিয়েছেন, চাঁদে যে গুহা পাওয়া গেল, এটি একটি দারুণ খবর। আরও অনেক গুহা থাকতে পারে চাঁদে। তাঁর আশা, আগামী ২০-৩০ বছরের মধ্যে মানুষ চাঁদে বসবাস শুরু করতে পারবে।