.webp)
নিজস্ব চিত্র
শেষ আপডেট: 15 October 2024 16:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজ্জর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফের ভারত-কানাডা সম্পর্কে চাপানউতর। কানাডার মাটিতে খলিস্তানপন্থী জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জরের মৃত্যু নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। প্রভাব পড়েছে দুই দেশেরই কূটনীতিতে। এরই মধ্যে কানাডা পুলিশ সোমবার দাবি করে বসে, ভারতের প্রশাসনিক আধিকারিকরা বিভিন্ন কাজে ক্রিমিনালদের ব্যবহার করে। নাম না করে বিষ্ণোই গোষ্ঠীর কথা বোঝাতে চায় তারা। জানানো হয়, 'দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিটিকে বিশেষ করে খলিস্তানপন্থী কার্যকলাপকে টার্গেট করার জন্য এই গোষ্ঠীর মদত নেয় ভারত।'
নিজ্জরকে ২০২০ সালে 'সন্ত্রাসবাদী' বলে ঘোষণা করে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে কানাডাকে পাঠানো একটি নথিতে জানানো হয়, ১৯৯৬ সালে সে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে কানাডায় গেছে। সেই সময়ে ট্রাক চালক হিসাবে কাজ করতেন। পাকিস্তানে অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
গত বছর তাকে হত্যা করা হয় কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার সারের একটি গুরুদ্বারের সামনে। কানাডা প্রশাসন দায় চাপায় ভারতের উপর। তাদের বক্তব্য, এই হত্যার সঙ্গে যোগ রয়েছে ভারতীয় হাই কমিশনারের। কিন্তু কূটনৈতিক রক্ষাকবচ থাকায় কোনও আইনি পদক্ষেপ করতে পারেনি।
এবার এই নিয়ে কানাডা পুলিশের তরফে বিস্ফোরক দাবি করা হল। তাদের অভিযোগ, দক্ষিণ এশিয়ার কমিউনিটিকে টার্গেট করছে ভারত সরকার। টার্গেট করছে খলিস্তান পন্থী কার্যকলাপকে। কিন্তু গোপন সূত্রে জানা গেছে, তারা এর জন্য অপরাধমূলক কিছু গোষ্ঠীকে বেছে নিচ্ছে।
কানাডা পুলিশের দাবি, 'একটি অপরাধমূলক সংগঠন, লোকে তাই জানে, বিষ্ণোই গোষ্ঠী। এদের ব্যবহার করা হচ্ছে নয়া দিল্লির তরফে। আমাদের বিশ্বাস ভারত সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে এই গোষ্ঠীর যোগ রয়েছে।'
এই পুলিশ বিভাগের দুই উচ্চপদস্থ আধিকারিক দুহেম ও গওভিন আরও দাবি করেন, 'ভারতীয় কূটনীতিবিদরা কানাডার বাসিন্দাদের থেকে এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে যা পরে এই সব অপরাধমূলক কাজে জড়িত গোষ্ঠীর কাছে যায় এবং তার ফলে বিরাট সমস্যা দেখা দেয়। খুন পর্যন্ত হতে পারে।'
যদিও এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে নয়া দিল্লি। ভারত কানাডার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনকে সমর্থন জানাচ্ছে, এই দাবিও খারিজ করা হয়। নয়া দিল্লি প্রথম থেকেই জানিয়ে আসছে, এই যে সকল দাবি সেদেশের তরফে করা হচ্ছে, তার কোনও প্রমাণ এপর্যন্ত তারা দিতে পারেনি।
পাশাপাশি, ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পাল্টা অভিযোগ, কানাডার আসন্ন পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টরপন্থী খলিস্তানি গোষ্ঠীগুলির সমর্থন পাওয়ার জন্যই ট্রুডো সরকার নতুন করে এই সব বিতর্ক সামনে আনছে।
এদিকে, কানাডা সরকারের নিশানায় রয়েছেন, এমন কূটনীতিকদের দেশে ফেরত আনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও কানাডা সরকারের দাবি, ভারতীয় ওই কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা হয়েছে। ভারতীয় হাই কমিশনার ও কূটনীতিকদের ফেরানোই শেষ নয়। কানাডা সরকারের অভিযোগের জবাবে দিল্লি এদেশে নিযুক্ত কানাডার ছয় জন কূটনীতিককেও বহিষ্কার করেছে।